বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কেবল নিরাপদ প্রত্যাবাসনেই: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মানবেতর জীবনের অবসান ঘটাতে মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই একমাত্র পথ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) নবনিযুক্ত প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন।জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, অর্থায়ন ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।অধ্যাপক ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত।" তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বছরের পর বছর শিবিরে বসবাস করায় শরণার্থী তরুণদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। একটি প্রযুক্তি-নির্ভর অথচ কর্মহীন প্রজন্ম গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হতে পারে। তাই তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই এখন সময়ের দাবি।বৈঠকে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন জানান, রোহিঙ্গা শিবিরের মানবিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় শরণার্থীদের স্বনির্ভরতা ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে শরণার্থীদের সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক শরণার্থী ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।ড. ইউনূস আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট আগের মতো আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না। যদিও গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, তবে সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো চাপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বৈঠকে জানানো হয়, ইউএনএইচসিআর-এর নতুন প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন।রোহিঙ্গা প্রসঙ্গের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও আনন্দময় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে সরকার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চায়।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কেবল নিরাপদ প্রত্যাবাসনেই: প্রধান উপদেষ্টা