চার দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরাইলের বেসামরিক প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেছে। নাকোরায় মার্কিন-নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে লেবানন স্পষ্ট জানিয়েছে—এটি কোনো শান্তি আলোচনা নয় এবং ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শান্তি চুক্তির প্রশ্ন ওঠে না।মার্কিন-নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বানে বুধবার নাকোরায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে লেবানন ও ইসরাইলের বেসামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ১৯৮০–এর দশকের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এমন সরাসরি যোগাযোগ হলো। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি সীমান্তে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ।বৈঠকের পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানান, বৈরুত আলোচনা করতে প্রস্তুত—তবে তা শুধুমাত্র নিরাপত্তা ও সংঘাত-সংক্রান্ত বিষয়াবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি কোনো শান্তি আলোচনা নয়।” তার মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ কেবলমাত্র একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে, যা বর্তমানে আলোচনার বিষয় নয়।সালাম আরও জানান, এই আলোচনার লক্ষ্য মূলত তিনটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত—চলমান শত্রুতার অবসানলেবাননে আটক ব্যক্তিদের মুক্তিলেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার তিনি আরও বলেন, লেবানন এখনো ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগের প্রতি অটল। ওই উদ্যোগে বলা হয়েছে—১৯৬৭ সালে দখল করা সব আরব ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আরব দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারে। সালামের ভাষায়, “আমাদের ইসরাইলের সঙ্গে কোনো পৃথক শান্তি চুক্তি করার ইচ্ছা নেই।”উত্তর সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে লেবানন-ইসরাইল উত্তেজনা অব্যাহত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয়পক্ষের গোলাবিনিময় ও সীমান্ত অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।বিশ্লেষকদের মতে, নাকোরার এই বৈঠক আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শান্তি বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়। বৈরুতের বক্তব্যেই বোঝা যায়—লেবানন নিরাপত্তা আলোচনায় রাজি হলেও রাজনৈতিক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। এই বৈঠকের ফলাফল কীভাবে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে, এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।