শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

শোলাকিয়ায় ৬ লাখ মুসল্লির ঐতিহাসিক ঈদ জামাত সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে প্রায় ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণে এই বিশাল সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এখানে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।শনিবার সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এবারের জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শুরুর আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী শটগানের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয়, যা শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের এক অনন্য রীতি।এবারের ঈদ জামাতকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ইবাদত শেষ করতে পেরেছেন। জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এত বড় জনসমাগম সত্ত্বেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ ও সফল আয়োজন হিসেবে অভিহিত করেন।জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়।শুক্রবার থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা কিশোরগঞ্জে আসতে শুরু করেছিলেন। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও খালি জায়গায় অবস্থান নিয়ে নামাজে শরিক হন। সব মিলিয়ে শোলাকিয়ার এবারের ঈদ জামাত কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশই নয়, বরং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শোলাকিয়ায় ৬ লাখ মুসল্লির ঐতিহাসিক ঈদ জামাত সম্পন্ন