বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

কেফিয়ায় মোড়ানো কণ্ঠস্বর: ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্ব নীরবতার বিরুদ্ধে গার্দিওলার তীব্র প্রতিবাদ

ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ পেপ গার্দিওলা আবারও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বৈশ্বিক নীরবতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রকৃত সংহতি শুধু কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপে প্রকাশ পেতে হবে। গার্দিওলার মতে, ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা ও নৈতিক দায়হীনতার প্রতিফলন।স্প্যানিশ ফুটবল কোচ পেপ গার্দিওলা, যিনি বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্বে রয়েছেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরব ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি প্রকৃত সংহতি মানে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ নয়, বরং সক্রিয় ও নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করা।বৃহস্পতিবার স্পেনের বার্সেলোনা শহরে আয়োজিত একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন গার্দিওলা। “Act x Palestine” শিরোনামের ওই আয়োজনটি কাতালোনিয়ার ঐতিহাসিক “সান্ত জর্দি” প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্প, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনে চলমান মানবিক সংকট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা।অনুষ্ঠান চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, পেপ গার্দিওলা ফিলিস্তিনের প্রতীকী কেফিয়া গলায় জড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, গত দুই বছরে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন তিনি এমন দৃশ্য দেখেন যেখানে একটি শিশু জানে না তার মা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন কি না, তখন তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন—ওই শিশুটির মনে তখন কী চলছে?গার্দিওলা আরও বলেন, “আমি মনে করি আমরা তাদের একা ফেলে দিয়েছি। আমি কল্পনা করি, তারা আমাদের জিজ্ঞেস করছে—তোমরা কোথায়? এসো, আমাদের সাহায্য করো। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কার্যত কিছুই করিনি।”ম্যানচেস্টার সিটির এই কোচ বৈশ্বিক সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা আন্তর্জাতিক নীরবতা এবং নৈতিক অক্ষমতার ফল। তিনি বলেন, “বোমা শুধু ধ্বংস করার জন্য ফেলা হয় না, বরং কণ্ঠরোধ করার জন্য, যেন বিশ্ব এই মানবিক বিপর্যয়কে উপেক্ষা করে।”গার্দিওলা জোর দিয়ে বলেন, শুধু কথা বলাই যথেষ্ট নয়। আমাদেরকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং মুখ ফিরিয়ে নেওয়া চলবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কেবল ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নয়, বরং সমগ্র মানবতার পক্ষে একটি নৈতিক অবস্থান।উল্লেখ্য, পেপ গার্দিওলা দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছেন। এর আগে তিনি বার্সেলোনার বাসিন্দাদের ঐতিহাসিক “লুইস কোম্পানিস” স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা দুই বছর ধরে চলমান একটি গণবিধ্বংসী অভিযানে রূপ নেয়। এ সময়ে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ধ্বংসযজ্ঞের পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কেফিয়ায় মোড়ানো কণ্ঠস্বর: ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্ব নীরবতার বিরুদ্ধে গার্দিওলার তীব্র প্রতিবাদ