ভারতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সমালোচনা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) তাদের ২০২৬ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করে পদ্ধতিগত সহিংসতা ও দমন-পীড়নকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাভাবিক করে তুলেছে। বিশেষ করে মুসলিম এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি প্রতিবেদনে গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।৫২৯ পৃষ্ঠার ৩৬তম বার্ষিক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বের ১০০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে ভারতের অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালজুড়ে দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, ঘৃণ্য বক্তব্য (Hate Speech) এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে পরিকল্পিত সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।সংখ্যালঘু বিতাড়ন ও উচ্ছেদ অভিযানপ্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে কয়েক শ বাংলাভাষী মুসলিম এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীকে "অবৈধ অভিবাসী" আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, যাকে মানবাধিকার সংস্থাটি অমানবিক বলে অভিহিত করেছে।কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশে বাধাপাহালগাম হামলার পর শুরু হওয়া 'অপারেশন সিঁদুর'-এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। বহু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার সমালোচক শিক্ষাবিদ ও ব্যঙ্গচিত্রকারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।লাদাখ আন্দোলন ও দমন-পীড়ন২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লাদাখে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ অসংখ্য আন্দোলনকারীকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি।ভিন্নমত দমনে আইনি মারপ্যাঁচHRW-এর মতে, ভারতের বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং সমালোচকদের দমনে সরকার "বিদেশি অর্থায়ন" বা "মানি লন্ডারিং"-এর মতো বানোয়াট অভিযোগ ব্যবহার করছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়েও সংস্থাটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।HRW-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, "ভারত সরকার বৈষম্যমূলক আইন ও ঘৃণ্য বক্তব্যের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।" সংস্থাটি অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।