শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

চরমপন্থী ও ইসলামফোবিক মানসিকতার শিকার নিরপরাধ নারী; বার্মিংহাম আদালতের রায়ে উন্মোচিত হলো ঘৃণ্য অপরাধের চিত্র

যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্বেষী হামলার জঘন্য নজির: শিখ নারীকে ‘মুসলিম মনে করে’ ধর্ষণ, হামলাকারীর যাবজ্জীবন



যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্বেষী হামলার জঘন্য নজির: শিখ নারীকে ‘মুসলিম মনে করে’ ধর্ষণ, হামলাকারীর যাবজ্জীবন

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে এক শিখ নারীকে ‘মুসলিম’ মনে করে নৃশংসভাবে ধর্ষণের দায়ে জন অ্যাশবি (৩২) নামক এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির আদালত। ইসলামভীতি বা ইসলামফোবিয়া কীভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং নিরপরাধ মানুষদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ প্রতিফলন। আদালত অপরাধীকে একজন ‘জঘন্য বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

মামলার শুনানিতে ৩২ বছর বয়সী অভিযুক্ত জন অ্যাশবি তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো মানসিক বা স্নায়বিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অপরাধীর জবানবন্দি অনুযায়ী, সে ওই নারীকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কারণ সে তাকে একজন ‘মুসলিম নারী’ হিসেবে ভুল করেছিল। অ্যাশবির বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি চরম বিদ্বেষ থেকে প্রসূত। সে কেবল শারীরিক লাঞ্ছনই নয়, বরং ভুক্তভোগীর ঘর থেকে চুরির অপরাধও স্বীকার করেছে। আদালত তার এই মানসিকতাকে সমাজের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ বলে আখ্যায়িত করেছে।

ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। যুক্তরাজ্যের ওয়ালসালের বাসিন্দা ওই নারী কর্মস্থল থেকে বাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাস থেকে নামার পর থেকেই অপরাধী জন অ্যাশবি তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই নারী নিজের বাড়িতে প্রবেশ করলে অ্যাশবিও সেখানে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে এবং তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী আসলে শিখ ধর্মাবলম্বী ছিলেন, কিন্তু হামলাকারী তার পোশাক বা অবয়ব দেখে তাকে মুসলিম বলে ধারণা করেছিল। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন। ‘শিখ উইমেন এইড’-এর প্রতিনিধি সুখবিন্দর কৌর এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ, তবে অনেক যৌন সহিংসতার ঘটনা এখনো আড়ালে রয়ে গেছে যা আমাদের উদ্বিগ্ন করে।” এই হামলা প্রমাণ করে যে, ঘৃণা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে যে কেউ এর শিকার হতে পারে।

বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্টের বিচারক জন অ্যাশবিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১৪ বছর কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি “একটি জঘন্য বর্ণবাদী এবং ইসলামবিদ্বেষী” হামলা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ব্রিটিশ সিভিল রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, ধর্মীয় বা বর্ণগত বিদ্বেষ থেকে কৃত অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত কয়েক বছরে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো প্রোপাগান্ডা কীভাবে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে। সচেতন অংশ মনে করে, কেবল কারাদণ্ডই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজে যে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা সমূলে উৎপাটন করা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের বর্বরতা রোধ করা সম্ভব।

বিষয় : যুক্তরাজ্য ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্বেষী হামলার জঘন্য নজির: শিখ নারীকে ‘মুসলিম মনে করে’ ধর্ষণ, হামলাকারীর যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে এক শিখ নারীকে ‘মুসলিম’ মনে করে নৃশংসভাবে ধর্ষণের দায়ে জন অ্যাশবি (৩২) নামক এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির আদালত। ইসলামভীতি বা ইসলামফোবিয়া কীভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং নিরপরাধ মানুষদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ প্রতিফলন। আদালত অপরাধীকে একজন ‘জঘন্য বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

মামলার শুনানিতে ৩২ বছর বয়সী অভিযুক্ত জন অ্যাশবি তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো মানসিক বা স্নায়বিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অপরাধীর জবানবন্দি অনুযায়ী, সে ওই নারীকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কারণ সে তাকে একজন ‘মুসলিম নারী’ হিসেবে ভুল করেছিল। অ্যাশবির বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি চরম বিদ্বেষ থেকে প্রসূত। সে কেবল শারীরিক লাঞ্ছনই নয়, বরং ভুক্তভোগীর ঘর থেকে চুরির অপরাধও স্বীকার করেছে। আদালত তার এই মানসিকতাকে সমাজের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ বলে আখ্যায়িত করেছে।

ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। যুক্তরাজ্যের ওয়ালসালের বাসিন্দা ওই নারী কর্মস্থল থেকে বাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাস থেকে নামার পর থেকেই অপরাধী জন অ্যাশবি তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই নারী নিজের বাড়িতে প্রবেশ করলে অ্যাশবিও সেখানে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে এবং তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী আসলে শিখ ধর্মাবলম্বী ছিলেন, কিন্তু হামলাকারী তার পোশাক বা অবয়ব দেখে তাকে মুসলিম বলে ধারণা করেছিল। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন। ‘শিখ উইমেন এইড’-এর প্রতিনিধি সুখবিন্দর কৌর এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ, তবে অনেক যৌন সহিংসতার ঘটনা এখনো আড়ালে রয়ে গেছে যা আমাদের উদ্বিগ্ন করে।” এই হামলা প্রমাণ করে যে, ঘৃণা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে যে কেউ এর শিকার হতে পারে।

বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্টের বিচারক জন অ্যাশবিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১৪ বছর কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি “একটি জঘন্য বর্ণবাদী এবং ইসলামবিদ্বেষী” হামলা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ব্রিটিশ সিভিল রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, ধর্মীয় বা বর্ণগত বিদ্বেষ থেকে কৃত অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত কয়েক বছরে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো প্রোপাগান্ডা কীভাবে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে। সচেতন অংশ মনে করে, কেবল কারাদণ্ডই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজে যে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা সমূলে উৎপাটন করা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের বর্বরতা রোধ করা সম্ভব।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত