শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

সৌদি আরব থেকে আনা ফ্যানের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ

ভারতে মাদরাসায় ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ফ্যান নিয়ে চাঞ্চল্য: কর্তৃপক্ষকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ



ভারতে মাদরাসায় ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ফ্যান নিয়ে চাঞ্চল্য: কর্তৃপক্ষকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ

ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশীনগরে একটি মাদরাসায় ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা সিলিং ফ্যানকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার (১০ মে) মেরামতের সময় ফ্যানে পাকিস্তানি ট্যাগ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে গভীর তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর পুলিশ জানিয়েছে, এতে কোনো নাশকতামূলক বা সন্দেহজনক উদ্দেশ্য ছিল না।

কুশীনগরের ‘মাদরাসা কাদরিয়া হাকিকাতুল উলুম’-এর দুটি ফ্যান এবং মোটর মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে পাঠানো হলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। মেকানিক ফ্যানটিতে “Made in Pakistan” লেখা দেখতে পান। পরবর্তীতে সেই ফ্যানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মাদরাসার ম্যানেজারসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ফ্যানটি সম্প্রতি স্থাপন করা হয়নি বরং দীর্ঘ সময় গুদামে পড়ে ছিল। শামসুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ফ্যানটি ২০২৩ সালে মাদরাসায় দান করেছিলেন। শামসুদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে তার ছেলে সৌদি আরব থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে এটি ভারতে পাঠান। ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় এটি অব্যবহৃত ছিল। সম্প্রতি মাদ্রাসা সংস্কারের সময় সেটি বের করে মেরামতে পাঠানো হয়েছিল।

বিষ্ণুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিনয় মিশ্র জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সৌদি আরব থেকে ফ্যানটি কেনার বৈধ নথিপত্র পুলিশের কাছে পেশ করেছেন। নথিপত্র যাচাইয়ের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ফ্যানটি সরাসরি পাকিস্তান থেকে আনা হয়নি বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল। কোনো ধরনের অপরাধমূলক যোগসূত্র না পাওয়ায় আটককৃতদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভারতে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ না থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে পাকিস্তানের লেবেলযুক্ত পণ্য প্রায়শই স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর নজরদারির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে।

গুজব বা আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট উত্তেজনা অনেক সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাধাগ্রস্ত করে। কুশীনগরের ঘটনায় পুলিশের পেশাদার তদন্ত ও দ্রুত সত্য উদঘাটন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


ভারতে মাদরাসায় ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ফ্যান নিয়ে চাঞ্চল্য: কর্তৃপক্ষকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশীনগরে একটি মাদরাসায় ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা সিলিং ফ্যানকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার (১০ মে) মেরামতের সময় ফ্যানে পাকিস্তানি ট্যাগ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে গভীর তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর পুলিশ জানিয়েছে, এতে কোনো নাশকতামূলক বা সন্দেহজনক উদ্দেশ্য ছিল না।

কুশীনগরের ‘মাদরাসা কাদরিয়া হাকিকাতুল উলুম’-এর দুটি ফ্যান এবং মোটর মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে পাঠানো হলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। মেকানিক ফ্যানটিতে “Made in Pakistan” লেখা দেখতে পান। পরবর্তীতে সেই ফ্যানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মাদরাসার ম্যানেজারসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ফ্যানটি সম্প্রতি স্থাপন করা হয়নি বরং দীর্ঘ সময় গুদামে পড়ে ছিল। শামসুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ফ্যানটি ২০২৩ সালে মাদরাসায় দান করেছিলেন। শামসুদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে তার ছেলে সৌদি আরব থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে এটি ভারতে পাঠান। ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় এটি অব্যবহৃত ছিল। সম্প্রতি মাদ্রাসা সংস্কারের সময় সেটি বের করে মেরামতে পাঠানো হয়েছিল।

বিষ্ণুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিনয় মিশ্র জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সৌদি আরব থেকে ফ্যানটি কেনার বৈধ নথিপত্র পুলিশের কাছে পেশ করেছেন। নথিপত্র যাচাইয়ের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ফ্যানটি সরাসরি পাকিস্তান থেকে আনা হয়নি বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল। কোনো ধরনের অপরাধমূলক যোগসূত্র না পাওয়ায় আটককৃতদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভারতে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ না থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে পাকিস্তানের লেবেলযুক্ত পণ্য প্রায়শই স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর নজরদারির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে।

গুজব বা আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট উত্তেজনা অনেক সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাধাগ্রস্ত করে। কুশীনগরের ঘটনায় পুলিশের পেশাদার তদন্ত ও দ্রুত সত্য উদঘাটন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ