ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক অনন্য ধৈর্য ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হামাস নেতা ড. খলিল আল-হাইয়ার স্ত্রী এমেল আল-হাইয়া (উম্মে উসামা)। সম্প্রতি আল জাজিরা মুবাশারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলমান লড়াইয়ে তিনি তার চার পুত্র ও পাঁচ নাতি-নাতনিসহ পরিবারের মোট ১৭ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। চরম শোকের মুহূর্তেও বিচলিত না হয়ে তিনি একে ‘শহাদাতের গৌরব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উম্মে উসামা তার সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নেতৃত্বের নৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একজন নেতাকে অবশ্যই সাধারণ জনগণের আগে নিজের পরিবার ও সন্তানদের উৎসর্গ করার মানসিকতা রাখতে হবে।
অনেক সমালোচক দাবি করেন যে হামাস নেতাদের পরিবার বিদেশে বিলাসিতায় থাকে, কিন্তু উম্মে উসামা জানান, তার সন্তানদের গাজার বাইরে নিরাপদ জীবনে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে আজ্জাম তুরস্কে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি গাজায় ফিরে আসাকেই বেছে নিয়েছিলেন।
উম্মে উসামা একে একে তার সন্তানদের হারানোর স্মৃতি চারণ করেন। তার পাঁচ ছেলের মধ্যে চারজনই এখন মৃত:
উম্মে উসামা বলেন, "আজ্জামের শাহাদাতের খবর শুনে আমি শোকের বদলে শুকরিয়ার সেজদা দিয়েছি। কারণ সে এটাই চেয়েছিল। গাজা থেকে বের হওয়া তার কাছে পানি থেকে মাছ তুলে নেওয়ার মতো যন্ত্রণাদায়ক ছিল।" তিনি আরও জানান, দুই বছর ধরে তিনি আজ্জামের দেখা পাননি এবং মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ভিডিও কলে শেষ কথা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার গাজায় বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ওপর জোর দিলেও, উম্মে উসামার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য যুদ্ধের একটি ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক দিক উন্মোচন করে।
এটি স্পষ্ট করে যে, ফিলিস্তিনিদের কাছে মাতৃভূমি রক্ষা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
গাজায় যেভাবে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে পুরো পরিবার নির্মূল করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনের অধীনে পড়ে কি না, সেই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। উম্মে উসামা জানান, অনেকের মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
খলিল আল-হাইয়া হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। ২০০৭ সাল থেকে তার পরিবার একাধিকবার ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২০১৪ সালের যুদ্ধে তাদের বাড়িতে হামলায় পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হন। বর্তমানে তিনি গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি।
উম্মে উসামার এই সাক্ষাৎকার কেবল একজন মায়ের শোকের গল্প নয়, বরং এটি গাজার হাজারো পরিবারের অটল মনোবলের প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তিগত বিশাল ক্ষতি সত্ত্বেও তার এই সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সংকল্পকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরেছে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক অনন্য ধৈর্য ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হামাস নেতা ড. খলিল আল-হাইয়ার স্ত্রী এমেল আল-হাইয়া (উম্মে উসামা)। সম্প্রতি আল জাজিরা মুবাশারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলমান লড়াইয়ে তিনি তার চার পুত্র ও পাঁচ নাতি-নাতনিসহ পরিবারের মোট ১৭ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। চরম শোকের মুহূর্তেও বিচলিত না হয়ে তিনি একে ‘শহাদাতের গৌরব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উম্মে উসামা তার সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নেতৃত্বের নৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একজন নেতাকে অবশ্যই সাধারণ জনগণের আগে নিজের পরিবার ও সন্তানদের উৎসর্গ করার মানসিকতা রাখতে হবে।
অনেক সমালোচক দাবি করেন যে হামাস নেতাদের পরিবার বিদেশে বিলাসিতায় থাকে, কিন্তু উম্মে উসামা জানান, তার সন্তানদের গাজার বাইরে নিরাপদ জীবনে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে আজ্জাম তুরস্কে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি গাজায় ফিরে আসাকেই বেছে নিয়েছিলেন।
উম্মে উসামা একে একে তার সন্তানদের হারানোর স্মৃতি চারণ করেন। তার পাঁচ ছেলের মধ্যে চারজনই এখন মৃত:
উম্মে উসামা বলেন, "আজ্জামের শাহাদাতের খবর শুনে আমি শোকের বদলে শুকরিয়ার সেজদা দিয়েছি। কারণ সে এটাই চেয়েছিল। গাজা থেকে বের হওয়া তার কাছে পানি থেকে মাছ তুলে নেওয়ার মতো যন্ত্রণাদায়ক ছিল।" তিনি আরও জানান, দুই বছর ধরে তিনি আজ্জামের দেখা পাননি এবং মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ভিডিও কলে শেষ কথা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার গাজায় বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ওপর জোর দিলেও, উম্মে উসামার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য যুদ্ধের একটি ভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক দিক উন্মোচন করে।
এটি স্পষ্ট করে যে, ফিলিস্তিনিদের কাছে মাতৃভূমি রক্ষা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
গাজায় যেভাবে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে পুরো পরিবার নির্মূল করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনের অধীনে পড়ে কি না, সেই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। উম্মে উসামা জানান, অনেকের মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
খলিল আল-হাইয়া হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। ২০০৭ সাল থেকে তার পরিবার একাধিকবার ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২০১৪ সালের যুদ্ধে তাদের বাড়িতে হামলায় পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হন। বর্তমানে তিনি গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি।
উম্মে উসামার এই সাক্ষাৎকার কেবল একজন মায়ের শোকের গল্প নয়, বরং এটি গাজার হাজারো পরিবারের অটল মনোবলের প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তিগত বিশাল ক্ষতি সত্ত্বেও তার এই সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সংকল্পকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরেছে।

আপনার মতামত লিখুন