শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

সীমান্ত বন্ধ ও অব্যাহত হামলায় ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি পবিত্র হজ পালন থেকে বঞ্চিত; হজের অপেক্ষায় থেকেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ জন

ইসরায়েলি অবরোধে অবরুদ্ধ স্বপ্ন: টানা ৩ বছর হজে যেতে পারছেন না গাজার বাসিন্দারা



ইসরায়েলি অবরোধে অবরুদ্ধ স্বপ্ন: টানা ৩ বছর হজে যেতে পারছেন না গাজার বাসিন্দারা

ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক হামলা, কঠোর অবরোধ এবং সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকার কারণে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো পবিত্র হজ পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গাজার ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অমানবিক পরিস্থিতির কারণে গত তিন বছরে ১০ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন। ইবাদত করার মৌলিক অধিকার হরণ করায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গাজার ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ পরিচালক আমির আবু আল-উমরাইন বর্তমান সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং সীমান্ত পথগুলো পরিকল্পিতভাবে বন্ধ রাখায় গাজার মুসলিমদের জন্য হজের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজার জন্য বাৎসরিক হজের কোটা প্রায় ২,৫০৮ জন। সেই হিসেবে গত তিন বছরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই পবিত্র ইবাদত থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, ২০১৩ সাল থেকে হজের লটারিতে নাম আসা ২,৪৭৩ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে ২৪০২ জন এখনও গাজায় আটকা পড়ে আছেন। এর মধ্যে ৭১ জন হজযাত্রী হজের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের শেষ ইচ্ছাটি অপূর্ণই থেকে গেছে।

আমির আবু আল-উমরাইন জোর দিয়ে বলেন, হজ পালন করা প্রতিটি মুসলিমের মৌলিক ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বছর খানেক আগেই হজের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে তাদের চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশের অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গাজা থেকে সর্বশেষ হজের কাফেলা পবিত্র ভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন মাসে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে। এরপর থেকে চলমান আগ্রাসনে গাজার জনজীবন বিপর্যস্ত। সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সৌদি আরব ও মিশরের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবিক ও ধর্মীয় কারণে সীমান্ত পথগুলো খুলে দিয়ে গাজার হজযাত্রীদের পবিত্র মক্কায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২,৭৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১,৭২,৫৮৮ ছাড়িয়ে গেছে। এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় অধিকারগুলোও এখন হুমকির মুখে।

বিষয় : ফিলিস্তিন হজ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ইসরায়েলি অবরোধে অবরুদ্ধ স্বপ্ন: টানা ৩ বছর হজে যেতে পারছেন না গাজার বাসিন্দারা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক হামলা, কঠোর অবরোধ এবং সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকার কারণে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো পবিত্র হজ পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গাজার ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অমানবিক পরিস্থিতির কারণে গত তিন বছরে ১০ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন। ইবাদত করার মৌলিক অধিকার হরণ করায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গাজার ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ পরিচালক আমির আবু আল-উমরাইন বর্তমান সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং সীমান্ত পথগুলো পরিকল্পিতভাবে বন্ধ রাখায় গাজার মুসলিমদের জন্য হজের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজার জন্য বাৎসরিক হজের কোটা প্রায় ২,৫০৮ জন। সেই হিসেবে গত তিন বছরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই পবিত্র ইবাদত থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, ২০১৩ সাল থেকে হজের লটারিতে নাম আসা ২,৪৭৩ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে ২৪০২ জন এখনও গাজায় আটকা পড়ে আছেন। এর মধ্যে ৭১ জন হজযাত্রী হজের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের শেষ ইচ্ছাটি অপূর্ণই থেকে গেছে।

আমির আবু আল-উমরাইন জোর দিয়ে বলেন, হজ পালন করা প্রতিটি মুসলিমের মৌলিক ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বছর খানেক আগেই হজের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে তাদের চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশের অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গাজা থেকে সর্বশেষ হজের কাফেলা পবিত্র ভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন মাসে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে। এরপর থেকে চলমান আগ্রাসনে গাজার জনজীবন বিপর্যস্ত। সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সৌদি আরব ও মিশরের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবিক ও ধর্মীয় কারণে সীমান্ত পথগুলো খুলে দিয়ে গাজার হজযাত্রীদের পবিত্র মক্কায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২,৭৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১,৭২,৫৮৮ ছাড়িয়ে গেছে। এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় অধিকারগুলোও এখন হুমকির মুখে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ