পবিত্র জেরুজালেম শহরে আবারও চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের জেরুজালেম দখলের বার্ষিকী বা 'জেরুজালেম দিবস' (ইওম যেরুশলায়িম) উদযাপনের নামে একদল উগ্রপন্থী ইহুদি বর্ণবাদী ও চরম উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জেরুজালেমের ঐতিহ্যবাহী দামেস্ক গেট এবং ওল্ড সিটি (প্রাচীন শহর) এলাকা গতকাল শুক্রবার এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী হয়। হাজার হাজার উগ্র ইহুদিদের একটি বিশাল দল সেখানে পদযাত্রা বের করে। মিছিল থেকে ফিলিস্তিনি ও আরবদের লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বর্ণবাদী স্লোগান দেওয়া হয়। তারা "আরবদের মৃত্যু হোক" এবং "তোমাদের গ্রামগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাক"-এর মতো চরম উস্কানিমূলক চিৎকার করে পুরো এলাকার পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই বিতর্কিত পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই ওল্ড সিটির বেশ কিছু অংশে স্থানীয় ফিলিস্তিনি এবং উগ্রপন্থী দলগুলোর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বদলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা জুড়ে এক চরম আতঙ্ক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দিনের শুরুর ভাগে চরম উস্কানি ছড়ান ইসরায়েলের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান মসিজিদুল আল-আকসা (টেম্পল মাউন্ট) প্রাঙ্গণে সশরীরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করেন এবং দম্ভোক্তি করে বলেন, "টেম্পল মাউন্ট এখন আমাদের হাতে।" তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বেন গভিরের এই পদক্ষেপের পর পরই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সৌদি আরব এবং কাতার যৌথভাবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সৌদি আরবের অবস্থান: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, অধিকৃত জেরুজালেম এবং এর পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপকে রিয়াদ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া বার্তা: কাতার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে একে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার এক অগ্রহণযোগ্য ও জঘন্য উস্কানি হিসেবে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা জাতিসংঘ কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে গণ্য করে। প্রতি বছর এই দিনে ইসরাইলি ডানপন্থীদের মিছিল ও আল-আকসায় উস্কানিমূলক প্রবেশকে কেন্দ্র করে জেরুসালেমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে।
জেরুসালেমের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং বর্ণবাদী স্লোগান শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে আরও রুদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক চাপ নিশ্চিত করা।
বিষয় : ফিলিস্তিন পূর্ব জেরুজালেম

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
পবিত্র জেরুজালেম শহরে আবারও চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের জেরুজালেম দখলের বার্ষিকী বা 'জেরুজালেম দিবস' (ইওম যেরুশলায়িম) উদযাপনের নামে একদল উগ্রপন্থী ইহুদি বর্ণবাদী ও চরম উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জেরুজালেমের ঐতিহ্যবাহী দামেস্ক গেট এবং ওল্ড সিটি (প্রাচীন শহর) এলাকা গতকাল শুক্রবার এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী হয়। হাজার হাজার উগ্র ইহুদিদের একটি বিশাল দল সেখানে পদযাত্রা বের করে। মিছিল থেকে ফিলিস্তিনি ও আরবদের লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বর্ণবাদী স্লোগান দেওয়া হয়। তারা "আরবদের মৃত্যু হোক" এবং "তোমাদের গ্রামগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাক"-এর মতো চরম উস্কানিমূলক চিৎকার করে পুরো এলাকার পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই বিতর্কিত পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই ওল্ড সিটির বেশ কিছু অংশে স্থানীয় ফিলিস্তিনি এবং উগ্রপন্থী দলগুলোর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বদলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা জুড়ে এক চরম আতঙ্ক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দিনের শুরুর ভাগে চরম উস্কানি ছড়ান ইসরায়েলের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান মসিজিদুল আল-আকসা (টেম্পল মাউন্ট) প্রাঙ্গণে সশরীরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করেন এবং দম্ভোক্তি করে বলেন, "টেম্পল মাউন্ট এখন আমাদের হাতে।" তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বেন গভিরের এই পদক্ষেপের পর পরই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সৌদি আরব এবং কাতার যৌথভাবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সৌদি আরবের অবস্থান: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, অধিকৃত জেরুজালেম এবং এর পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপকে রিয়াদ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া বার্তা: কাতার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে একে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার এক অগ্রহণযোগ্য ও জঘন্য উস্কানি হিসেবে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা জাতিসংঘ কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে গণ্য করে। প্রতি বছর এই দিনে ইসরাইলি ডানপন্থীদের মিছিল ও আল-আকসায় উস্কানিমূলক প্রবেশকে কেন্দ্র করে জেরুসালেমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে।
জেরুসালেমের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং বর্ণবাদী স্লোগান শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে আরও রুদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক চাপ নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত লিখুন