রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় একটি অবরুদ্ধ মুসলিম পরিবারের ওপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে চরম ধর্মীয় হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ধর্মান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এতে ব্যর্থ হয়ে ওই মুসলিম পরিবারের ওপর একাধিকবার শারীরিক হামলা, হত্যার হুমকি এবং পৈতৃক বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ধর্মীয় আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে একটি সাধারণ মুসলিম পরিবার। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তাদের ওপর চলছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। মূল টার্গেট—হয় ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণ করতে হবে, না হয় বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শুহাদের সঙ্গে সরেজমিনে কথা বলে, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই লোমহর্ষক নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে।
বিরোধের সূত্রপাত ও ধর্মীয় উস্কানি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শুহাদদের বর্তমান বসতভিটার জমিটি তার প্রয়াত বাবা স্থানীয় ‘গফুর’ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে ক্রয় করেছিলেন। বিক্রেতা গফুর ব্যক্তিজীবনে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তবে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের ভাষ্যমতে, শুহাদের বাবা একজন একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন। তিনি নিয়মিত মুসলমানদের মসজিদে নামাজ আদায় করতেন এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পিতার মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় কাদিয়ানীদের একটি উগ্র অংশ দাবি করতে থাকে—যেহেতু জমিটি একসময় একজন কাদিয়ানীর মালিকানায় ছিল, তাই সেখানে বসবাস করতে হলে বর্তমান বাসিন্দা শুহাদদের পরিবারকেও কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণ করতে হবে। আর তা না করলে এই ভিটেমাটিতে থাকার কোনো অধিকার তাদের নেই।
‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’
এরপর থেকেই শুরু হয় ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হয়রানি। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন কাদিয়ানী নেতা ও তাদের অনুসারীরা প্রায়ই তাদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ বলে কটূক্তি ও হুমকি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ধরনের উগ্র আচরণের কারণে পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক অস্থিরতা ও তীব্র নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
শুধু মানসিক চাপই নয়, পরিবারটির দাবি—বিভিন্ন সময় শুহাদের বৃদ্ধা মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করা হয়েছে। সন্তানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে পরিবারটিকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করা অথবা এলাকা ছাড়া করা।
কবরস্থানের নামে জমি দখলের চেষ্টা ও ‘আমিরে’র সফর
শুহাদদের বাড়ির ঠিক পাশেই কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের একটি কবরস্থান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই কবরস্থানে যাতায়াতের অযুহাতে কাদিয়ানীরা জোরপূর্বক তাদের ব্যক্তিগত উঠান ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তারা মূল জমিটির ওপরও অবৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে।
পরিবারটির দাবি, সম্প্রতি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের তথাকথিত ‘ন্যাশনাল আমির’ আব্দুল আউয়াল খান শ্যামপুর এলাকা সফর করেন। ওই সফরের সময় স্থানীয় কাদিয়ানীদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কবরস্থানের রাস্তা এবং এই মুসলিম পরিবারের বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। শুহাদের অভিযোগ, আমির আব্দুল আউয়াল খানের ওই সফরের কিছুদিন পরই তার ওপর পরিকল্পিত ও মারাত্মক হামলা চালানো হয়। হামলাটি সম্পূর্ণ হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল বলে দাবি শুহাদের। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই হামলায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তরা ওই সফরে ন্যাশনাল আমিরের ব্যক্তিগত সহযোগী ও নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রশাসনের উদাসীনতা ও জনপ্রতিনিধির নজিরবিহীন অপমান
আইনের আশ্রয় নিতে গিয়েও চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে এই মজলুম পরিবারটি। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে একাধিকবার বদরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চাইতে যান তারা। কিন্তু সেখানে গিয়ে আরও বড় ধাক্কা খেতে হয় পরিবারটিকে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) স্পষ্ট ভাষায় তাদের জানিয়ে দেন, “মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট দেখাতে না পারলে আমি কোনো বিচার করতে পারব না।”
একজন জন্মগত মুসলিম নারীর কাছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির এমন শর্তকে চরম অপমানজনক, বৈষম্যমূলক ও নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন শুহাদের মা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ওই জনপ্রতিনিধিকে বলেন, “আমি জন্মগত মুসলিম। মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট কেন দেব?” কিন্তু এরপরও ওই জনপ্রতিনিধির মন গলেনি এবং পরিবারটি কোনো বিচার পায়নি।
মানবাধিকার ও নিরাপত্তার দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি কেবল সাধারণ কোনো জমিজমার বিরোধ নয়; বরং একটি সংখ্যালঘু (মতাদর্শগত) গোষ্ঠীর দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত নির্যাতন। ভুক্তভোগীরা এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী কাদিয়ানী হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনানুগ শাস্তি এবং সর্বোপরি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিষয় : মানবাধিকার কাদিয়ানী

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় একটি অবরুদ্ধ মুসলিম পরিবারের ওপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে চরম ধর্মীয় হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ধর্মান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এতে ব্যর্থ হয়ে ওই মুসলিম পরিবারের ওপর একাধিকবার শারীরিক হামলা, হত্যার হুমকি এবং পৈতৃক বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ধর্মীয় আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে একটি সাধারণ মুসলিম পরিবার। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তাদের ওপর চলছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। মূল টার্গেট—হয় ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণ করতে হবে, না হয় বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শুহাদের সঙ্গে সরেজমিনে কথা বলে, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই লোমহর্ষক নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে।
বিরোধের সূত্রপাত ও ধর্মীয় উস্কানি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শুহাদদের বর্তমান বসতভিটার জমিটি তার প্রয়াত বাবা স্থানীয় ‘গফুর’ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে ক্রয় করেছিলেন। বিক্রেতা গফুর ব্যক্তিজীবনে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তবে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের ভাষ্যমতে, শুহাদের বাবা একজন একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন। তিনি নিয়মিত মুসলমানদের মসজিদে নামাজ আদায় করতেন এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পিতার মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় কাদিয়ানীদের একটি উগ্র অংশ দাবি করতে থাকে—যেহেতু জমিটি একসময় একজন কাদিয়ানীর মালিকানায় ছিল, তাই সেখানে বসবাস করতে হলে বর্তমান বাসিন্দা শুহাদদের পরিবারকেও কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণ করতে হবে। আর তা না করলে এই ভিটেমাটিতে থাকার কোনো অধিকার তাদের নেই।
‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’
এরপর থেকেই শুরু হয় ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হয়রানি। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন কাদিয়ানী নেতা ও তাদের অনুসারীরা প্রায়ই তাদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ বলে কটূক্তি ও হুমকি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ধরনের উগ্র আচরণের কারণে পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক অস্থিরতা ও তীব্র নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
শুধু মানসিক চাপই নয়, পরিবারটির দাবি—বিভিন্ন সময় শুহাদের বৃদ্ধা মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করা হয়েছে। সন্তানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে পরিবারটিকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করা অথবা এলাকা ছাড়া করা।
কবরস্থানের নামে জমি দখলের চেষ্টা ও ‘আমিরে’র সফর
শুহাদদের বাড়ির ঠিক পাশেই কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের একটি কবরস্থান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই কবরস্থানে যাতায়াতের অযুহাতে কাদিয়ানীরা জোরপূর্বক তাদের ব্যক্তিগত উঠান ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তারা মূল জমিটির ওপরও অবৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে।
পরিবারটির দাবি, সম্প্রতি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের তথাকথিত ‘ন্যাশনাল আমির’ আব্দুল আউয়াল খান শ্যামপুর এলাকা সফর করেন। ওই সফরের সময় স্থানীয় কাদিয়ানীদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কবরস্থানের রাস্তা এবং এই মুসলিম পরিবারের বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। শুহাদের অভিযোগ, আমির আব্দুল আউয়াল খানের ওই সফরের কিছুদিন পরই তার ওপর পরিকল্পিত ও মারাত্মক হামলা চালানো হয়। হামলাটি সম্পূর্ণ হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল বলে দাবি শুহাদের। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই হামলায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তরা ওই সফরে ন্যাশনাল আমিরের ব্যক্তিগত সহযোগী ও নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রশাসনের উদাসীনতা ও জনপ্রতিনিধির নজিরবিহীন অপমান
আইনের আশ্রয় নিতে গিয়েও চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে এই মজলুম পরিবারটি। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে একাধিকবার বদরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চাইতে যান তারা। কিন্তু সেখানে গিয়ে আরও বড় ধাক্কা খেতে হয় পরিবারটিকে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) স্পষ্ট ভাষায় তাদের জানিয়ে দেন, “মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট দেখাতে না পারলে আমি কোনো বিচার করতে পারব না।”
একজন জন্মগত মুসলিম নারীর কাছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির এমন শর্তকে চরম অপমানজনক, বৈষম্যমূলক ও নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন শুহাদের মা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ওই জনপ্রতিনিধিকে বলেন, “আমি জন্মগত মুসলিম। মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট কেন দেব?” কিন্তু এরপরও ওই জনপ্রতিনিধির মন গলেনি এবং পরিবারটি কোনো বিচার পায়নি।
মানবাধিকার ও নিরাপত্তার দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি কেবল সাধারণ কোনো জমিজমার বিরোধ নয়; বরং একটি সংখ্যালঘু (মতাদর্শগত) গোষ্ঠীর দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত নির্যাতন। ভুক্তভোগীরা এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী কাদিয়ানী হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনানুগ শাস্তি এবং সর্বোপরি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন