বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব কেবল মিয়ানমারের ভেতরে। বাংলাদেশ শরণার্থী আশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরে: ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরে: ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারের ভেতরে সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের সাহসী পদক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অবসান হবে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

গ্রান্ডি বলেন, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আট বছর আগে মিয়ানমারের সেনাদের নির্মম সহিংসতায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, এবং অনেকে রাখাইন রাজ্যেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা দখলে নিলেও রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি উন্নত হয়নি। তাদের জীবনের বাস্তবতা হলো গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার ভয়, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার, চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা এবং জোরপূর্বক শ্রম। প্রতিদিনই তারা বর্ণবাদ ও আতঙ্কের শিকার হচ্ছেন।

গ্রান্ডি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশটি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০২৪ সালের নতুন সংঘাতের পর আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এমনকি চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তবে তিনি সতর্ক করেন, মানবিক সহায়তা তহবিল এখনও পর্যাপ্ত নয়। যথেষ্ট তহবিল না এলে জরুরি সহায়তা কাটছাঁট করতে হতে পারে, যার ফলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা বাড়বে এবং আরও রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।

গ্রান্ডি বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান—তহবিল, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সাহায্য করতে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা এই সংকট সমাধান করতে পারবে না। রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলো প্রাসঙ্গিক এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।”

বিষয় : বাংলাদেশ রোহিঙ্গা মিয়ানমার শরণার্থী মানবিক সহায়তা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরে: ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারের ভেতরে সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের সাহসী পদক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অবসান হবে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

গ্রান্ডি বলেন, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আট বছর আগে মিয়ানমারের সেনাদের নির্মম সহিংসতায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, এবং অনেকে রাখাইন রাজ্যেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা দখলে নিলেও রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি উন্নত হয়নি। তাদের জীবনের বাস্তবতা হলো গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার ভয়, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার, চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা এবং জোরপূর্বক শ্রম। প্রতিদিনই তারা বর্ণবাদ ও আতঙ্কের শিকার হচ্ছেন।

গ্রান্ডি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশটি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০২৪ সালের নতুন সংঘাতের পর আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এমনকি চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তবে তিনি সতর্ক করেন, মানবিক সহায়তা তহবিল এখনও পর্যাপ্ত নয়। যথেষ্ট তহবিল না এলে জরুরি সহায়তা কাটছাঁট করতে হতে পারে, যার ফলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা বাড়বে এবং আরও রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।

গ্রান্ডি বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান—তহবিল, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সাহায্য করতে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা এই সংকট সমাধান করতে পারবে না। রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলো প্রাসঙ্গিক এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।”


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত