বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি বাহিনী গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৩৯টি নৌযান আটক করেছে। এতে ছিলেন বিদেশি অধিকারকর্মী ও সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।

গাজার পথে গ্লোবাল ফ্লোটিলা আটক, যাত্রীদের মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গ


প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজার পথে গ্লোবাল ফ্লোটিলা আটক, যাত্রীদের মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গ

গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানবিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৩৯টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব নৌযানে ছিলেন শতাধিক প্রো-ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী, যাদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন।

তেলআবিব, ৩ অক্টোবর — গাজার অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের নৌবহরটি যাত্রা শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবার আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী নৌবহরের ৩৯টি নৌযান আটক করেছে। তবে বহরের একটি নৌযান, মিকেনো, এখনো ফিলিস্তিনি উপকূলের দিকে যাত্রা করছে বলে জানা গেলেও এর সঙ্গে মূল বহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ফ্লোটিলার ওয়েবসাইটের ট্র্যাকার অনুযায়ী, মিকেনো এখনো অগ্রসর হচ্ছে। তবে আয়োজকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এটিও আটক হতে পারে।

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল নৌ অবরোধ জারি রাখে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকারকর্মীরা বারবার সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

২০১০ সালে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায়, ৬টি নৌকা নিয়ে গাজার পথে যাত্রা করা এক বহরে ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালালে ৯ কর্মী নিহত হন। ওই বহরে ৫০টি দেশের ৭০০ প্রো-ফিলিস্তিনি কর্মী ছিলেন।

চলতি বছরের জুন মাসেও ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন নামের প্রো-ফিলিস্তিনি সংগঠনের একটি ছোট নৌকায় গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন। সেসময় তাকেসহ আরও ১১ জনকে আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজার ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করছে, ইসরায়েল অবরোধের মাধ্যমে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও মৌলিক চাহিদার প্রবেশ সীমিত করছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

এদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সমুদ্রপথে গাজার প্রবেশ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে এবং এ পথ ব্যবহার করে অস্ত্র পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।

গাজার নৌ অবরোধ ভাঙতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর অবস্থান এর সাফল্য অনিশ্চিত করে তুলেছে। বর্তমানে মিকেনো নৌযানের ভাগ্য নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

বিষয় : আন্তর্জাতিক গাজা ফিলিস্তিন ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজার পথে গ্লোবাল ফ্লোটিলা আটক, যাত্রীদের মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গ

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানবিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৩৯টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব নৌযানে ছিলেন শতাধিক প্রো-ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী, যাদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন।

তেলআবিব, ৩ অক্টোবর — গাজার অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের নৌবহরটি যাত্রা শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবার আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী নৌবহরের ৩৯টি নৌযান আটক করেছে। তবে বহরের একটি নৌযান, মিকেনো, এখনো ফিলিস্তিনি উপকূলের দিকে যাত্রা করছে বলে জানা গেলেও এর সঙ্গে মূল বহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ফ্লোটিলার ওয়েবসাইটের ট্র্যাকার অনুযায়ী, মিকেনো এখনো অগ্রসর হচ্ছে। তবে আয়োজকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এটিও আটক হতে পারে।

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল নৌ অবরোধ জারি রাখে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকারকর্মীরা বারবার সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

২০১০ সালে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায়, ৬টি নৌকা নিয়ে গাজার পথে যাত্রা করা এক বহরে ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালালে ৯ কর্মী নিহত হন। ওই বহরে ৫০টি দেশের ৭০০ প্রো-ফিলিস্তিনি কর্মী ছিলেন।

চলতি বছরের জুন মাসেও ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন নামের প্রো-ফিলিস্তিনি সংগঠনের একটি ছোট নৌকায় গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন। সেসময় তাকেসহ আরও ১১ জনকে আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজার ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করছে, ইসরায়েল অবরোধের মাধ্যমে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও মৌলিক চাহিদার প্রবেশ সীমিত করছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

এদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সমুদ্রপথে গাজার প্রবেশ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে এবং এ পথ ব্যবহার করে অস্ত্র পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।

গাজার নৌ অবরোধ ভাঙতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর অবস্থান এর সাফল্য অনিশ্চিত করে তুলেছে। বর্তমানে মিকেনো নৌযানের ভাগ্য নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত