গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক অভিযানের প্রতিবাদে স্পেনের পার্লামেন্ট একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বামপন্থী জোট সরকারের প্রস্তাবে ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইউরোপে ইসরায়েলবিরোধী প্রথম সরকারি পদক্ষেপগুলোর একটি।
মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, স্পেনের পার্লামেন্ট ২৩ সেপ্টেম্বরের বিলম্বিত ভোটে ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের সরকারি ডিক্রি অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি ৯ সেপ্টেম্বর সরকারের ঘোষিত নয় দফা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল।
ভোটটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা একদিন পিছিয়ে বুধবার নেওয়া হয়, কারণ ৭ অক্টোবর ছিল হামাসের “তোফান আল-আকসা” অভিযানের দুই বছর পূর্তি—যা নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে তীব্র কূটনৈতিক চাপ আসে।
সরকারি মন্ত্রিসভার প্রস্তাবটি পাশ হয় বাস্ক ও কাতালোনিয়ান জাতীয়তাবাদী দল এবং বামঘেঁষা পোদেমোস (Podemos) দলের সমর্থনে। ডানপন্থী পিপলস পার্টি (PP) এবং উগ্রডান ভক্স (Vox) দল এর বিরোধিতা করে।
তবে পোদেমোসের নেতা আয়োনে বেলারা এই নিষেধাজ্ঞাকে “মিথ্যা নিষেধাজ্ঞা” বলে অভিহিত করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সরকার প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করেনি, বরং একটি প্রতারণামূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।” তিনি আরও জানান, “আমরা পুরোপুরি অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধের দাবি অব্যাহত রাখব, যদিও আজ আমরা এই রাজকীয় ডিক্রিকে সমর্থন দিচ্ছি যাতে সবাই বুঝতে পারে সরকার এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।”
স্পেন সরকার দাবি করছে, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো অস্ত্র বাণিজ্য করেনি। তবে নাগরিক সংগঠনগুলো পূর্বের কিছু অস্ত্রচুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারের স্বচ্ছতা দাবি করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা মূলত অভ্যন্তরীণ চাপ ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সংকটের ফলাফল। ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া চলমান দুর্ভিক্ষে আরও ৪৬০ জন, এর মধ্যে ১৫৪ শিশু, প্রাণ হারিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক অভিযানের প্রতিবাদে স্পেনের পার্লামেন্ট একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বামপন্থী জোট সরকারের প্রস্তাবে ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইউরোপে ইসরায়েলবিরোধী প্রথম সরকারি পদক্ষেপগুলোর একটি।
মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, স্পেনের পার্লামেন্ট ২৩ সেপ্টেম্বরের বিলম্বিত ভোটে ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের সরকারি ডিক্রি অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি ৯ সেপ্টেম্বর সরকারের ঘোষিত নয় দফা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল।
ভোটটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা একদিন পিছিয়ে বুধবার নেওয়া হয়, কারণ ৭ অক্টোবর ছিল হামাসের “তোফান আল-আকসা” অভিযানের দুই বছর পূর্তি—যা নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে তীব্র কূটনৈতিক চাপ আসে।
সরকারি মন্ত্রিসভার প্রস্তাবটি পাশ হয় বাস্ক ও কাতালোনিয়ান জাতীয়তাবাদী দল এবং বামঘেঁষা পোদেমোস (Podemos) দলের সমর্থনে। ডানপন্থী পিপলস পার্টি (PP) এবং উগ্রডান ভক্স (Vox) দল এর বিরোধিতা করে।
তবে পোদেমোসের নেতা আয়োনে বেলারা এই নিষেধাজ্ঞাকে “মিথ্যা নিষেধাজ্ঞা” বলে অভিহিত করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সরকার প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করেনি, বরং একটি প্রতারণামূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।” তিনি আরও জানান, “আমরা পুরোপুরি অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধের দাবি অব্যাহত রাখব, যদিও আজ আমরা এই রাজকীয় ডিক্রিকে সমর্থন দিচ্ছি যাতে সবাই বুঝতে পারে সরকার এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।”
স্পেন সরকার দাবি করছে, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো অস্ত্র বাণিজ্য করেনি। তবে নাগরিক সংগঠনগুলো পূর্বের কিছু অস্ত্রচুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারের স্বচ্ছতা দাবি করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা মূলত অভ্যন্তরীণ চাপ ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সংকটের ফলাফল। ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া চলমান দুর্ভিক্ষে আরও ৪৬০ জন, এর মধ্যে ১৫৪ শিশু, প্রাণ হারিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন