বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

পুলিশে কর্মরত ব্যক্তির মাদক কারবারে জড়ানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ; আটক ব্যক্তি চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা, তবে বর্তমান কর্মস্থল নিয়ে ধোঁয়াশা

পুলিশ পরিচয়ে ইয়াবা পাচার! যশোরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ পরিচয়ে ইয়াবা পাচার! যশোরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক

মাদকদ্রব্য পাচারে এবার সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. মহিবুর রহমান রিমন (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আটককৃত রিমন বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বলে ডিএনসি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করলেও, এই বিষয়ে দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশে সংশ্লিষ্ট কেউ রাজি হননি। এই ঘটনা দেশের মাদক পাচার চক্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে যশোর সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়নের মনোহরপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান জানান, সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন যাত্রী রিমনকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে মোট ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আটক মহিবুর রহমান রিমন (৩১) চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে আটককৃতের পেশা নিয়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে রিমন পুলিশে কর্মরত। তবে তার বর্তমান কর্মস্থল বা পদমর্যাদা সম্পর্কে কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি। ডিএনসির উপ-পরিচালক আসলাম হোসেনের বক্তব্য, "আটক ব্যক্তি কোনো বাহিনীতে কর্মরত কিনা তা আমাদের বিবেচ্য নয়," যা এই সংবেদনশীল তথ্যকে আরও রহস্যাবৃত করেছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত বলেছেন, আটক ব্যক্তি কোনো বাহিনীর সদস্য কি না তা মামলার বাদী বলতে পারবেন এবং তাদের কাছে এখনো এমন কোনো তথ্য নেই। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকার কারণে ঘটনাটি তার জানা নেই বলে জানান।

একজন পুলিশ সদস্যের সরাসরি মাদক পাচারের ঘটনায় আটক হওয়া প্রমাণ করে যে মাদকের অবৈধ কারবার দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও শেকড় গেড়েছে। এই ঘটনার নিবিড় ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত সব প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পুলিশ পরিচয়ে ইয়াবা পাচার! যশোরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

মাদকদ্রব্য পাচারে এবার সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. মহিবুর রহমান রিমন (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আটককৃত রিমন বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বলে ডিএনসি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করলেও, এই বিষয়ে দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশে সংশ্লিষ্ট কেউ রাজি হননি। এই ঘটনা দেশের মাদক পাচার চক্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে যশোর সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়নের মনোহরপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান জানান, সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন যাত্রী রিমনকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে মোট ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আটক মহিবুর রহমান রিমন (৩১) চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে আটককৃতের পেশা নিয়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে রিমন পুলিশে কর্মরত। তবে তার বর্তমান কর্মস্থল বা পদমর্যাদা সম্পর্কে কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি। ডিএনসির উপ-পরিচালক আসলাম হোসেনের বক্তব্য, "আটক ব্যক্তি কোনো বাহিনীতে কর্মরত কিনা তা আমাদের বিবেচ্য নয়," যা এই সংবেদনশীল তথ্যকে আরও রহস্যাবৃত করেছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত বলেছেন, আটক ব্যক্তি কোনো বাহিনীর সদস্য কি না তা মামলার বাদী বলতে পারবেন এবং তাদের কাছে এখনো এমন কোনো তথ্য নেই। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকার কারণে ঘটনাটি তার জানা নেই বলে জানান।

একজন পুলিশ সদস্যের সরাসরি মাদক পাচারের ঘটনায় আটক হওয়া প্রমাণ করে যে মাদকের অবৈধ কারবার দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও শেকড় গেড়েছে। এই ঘটনার নিবিড় ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত সব প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত