বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

১৫০ হাজার লিরার সুদবিহীন বিয়ে সহায়তা ঋণে ৮ হাজার দম্পতির অনুমোদন, ২০২৬ সালে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে

সুদবিহীন বিয়ের ঋণ প্রকল্পে রেকর্ড আবেদন — ২৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর আগ্রহ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুদবিহীন বিয়ের ঋণ প্রকল্পে রেকর্ড আবেদন — ২৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর আগ্রহ

তুরস্কের তরুণ প্রজন্মের পারিবারিক জীবনে স্থিতি আনতে সরকার চালু করেছে “বিয়ের ঋণ” প্রকল্প। ইস্তাম্বুলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার ৭৮০ জন আবেদন করেছে, যার মধ্যে ৮ হাজার দম্পতির ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নবদম্পতিদের দেওয়া হচ্ছে ১৫০ হাজার লিরার সুদবিহীন ঋণ এবং পারিবারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা।

তুরস্কের পরিবার ও সামাজিক সেবা মন্ত্রণালয় পরিচালিত “এভলিনেজেক গেঞ্চলরিন দেসতেকলেনমেসি” (Evlenecek Gençlerin Desteklenmesi) প্রকল্পটি মূলত তরুণদের পারিবারিক জীবনে উৎসাহ দিতে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে চালু হলেও, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ঘোষণার পর এটি দেশের ৮১টি প্রদেশে কার্যকর করা হয়েছে।

ইস্তাম্বুলে জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে ২৬ হাজার ৭৮০ জন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার আবেদনকারী অনুমোদন পেয়েছেন। আবেদনকারীদের ২ বছর পরিশোধ-মুক্ত এবং ৪৮ মাস মেয়াদি ১৫০ হাজার লিরার সুদবিহীন ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ইস্তাম্বুল পরিবার ও সামাজিক সেবা পরিচালক ওমের তুরান জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী সব তুর্কি নাগরিকই e-Devlet প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। অনুমোদনপ্রাপ্তদের জন্য রয়েছে “বিয়ের আগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি”, যেখানে পরিবারিক সম্পর্ক, যোগাযোগ দক্ষতা ও মানসিক চাপ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালে প্রকল্পে নতুন সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। ১৮–২৫ বছর বয়সীদের জন্য ঋণ বাড়িয়ে ২.৫ লাখ লিরা এবং ২৬–২৯ বছর বয়সীদের জন্য ২ লাখ লিরা করা হবে। প্রথম বছরে সন্তান গ্রহণকারীদের জন্য ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার সুযোগও দেওয়া হবে।

এছাড়া “কোক সালান আইলেলার” (Kök Salan Aileler) নামের বিশেষ উদ্যোগে প্রতিটি দম্পতিকে বিয়ের প্রতীক হিসেবে ইস্তাম্বুলের রিভা এলাকায় একটি করে গাছ রোপণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে “পারিবারিক বন” গড়ে তোলা হচ্ছে, যা নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এক নবদম্পতি সেয়িত এমরে আচিকেল বলেন, “আমরা চাই আমাদের গাছ যেমন বেড়ে উঠবে, আমাদের সম্পর্কও তেমনি দৃঢ় হোক।” আরেকজন আবেদনকারী আয়সা বেদির মন্তব্য, “এই ঋণ আমাদের অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে। আমাদের ফিডান (চারা) একদিন আমাদের মতোই বড় হবে — সেটি ভাবতেই ভালো লাগে।”

তুরস্ক সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ তরুণদের বিয়ে ও পারিবারিক জীবনে আগ্রহী করবে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাবে।

বিষয় : তুরস্ক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সুদবিহীন বিয়ের ঋণ প্রকল্পে রেকর্ড আবেদন — ২৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর আগ্রহ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

তুরস্কের তরুণ প্রজন্মের পারিবারিক জীবনে স্থিতি আনতে সরকার চালু করেছে “বিয়ের ঋণ” প্রকল্প। ইস্তাম্বুলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার ৭৮০ জন আবেদন করেছে, যার মধ্যে ৮ হাজার দম্পতির ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নবদম্পতিদের দেওয়া হচ্ছে ১৫০ হাজার লিরার সুদবিহীন ঋণ এবং পারিবারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা।

তুরস্কের পরিবার ও সামাজিক সেবা মন্ত্রণালয় পরিচালিত “এভলিনেজেক গেঞ্চলরিন দেসতেকলেনমেসি” (Evlenecek Gençlerin Desteklenmesi) প্রকল্পটি মূলত তরুণদের পারিবারিক জীবনে উৎসাহ দিতে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে চালু হলেও, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ঘোষণার পর এটি দেশের ৮১টি প্রদেশে কার্যকর করা হয়েছে।

ইস্তাম্বুলে জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে ২৬ হাজার ৭৮০ জন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার আবেদনকারী অনুমোদন পেয়েছেন। আবেদনকারীদের ২ বছর পরিশোধ-মুক্ত এবং ৪৮ মাস মেয়াদি ১৫০ হাজার লিরার সুদবিহীন ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ইস্তাম্বুল পরিবার ও সামাজিক সেবা পরিচালক ওমের তুরান জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী সব তুর্কি নাগরিকই e-Devlet প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। অনুমোদনপ্রাপ্তদের জন্য রয়েছে “বিয়ের আগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি”, যেখানে পরিবারিক সম্পর্ক, যোগাযোগ দক্ষতা ও মানসিক চাপ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালে প্রকল্পে নতুন সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। ১৮–২৫ বছর বয়সীদের জন্য ঋণ বাড়িয়ে ২.৫ লাখ লিরা এবং ২৬–২৯ বছর বয়সীদের জন্য ২ লাখ লিরা করা হবে। প্রথম বছরে সন্তান গ্রহণকারীদের জন্য ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার সুযোগও দেওয়া হবে।

এছাড়া “কোক সালান আইলেলার” (Kök Salan Aileler) নামের বিশেষ উদ্যোগে প্রতিটি দম্পতিকে বিয়ের প্রতীক হিসেবে ইস্তাম্বুলের রিভা এলাকায় একটি করে গাছ রোপণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে “পারিবারিক বন” গড়ে তোলা হচ্ছে, যা নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এক নবদম্পতি সেয়িত এমরে আচিকেল বলেন, “আমরা চাই আমাদের গাছ যেমন বেড়ে উঠবে, আমাদের সম্পর্কও তেমনি দৃঢ় হোক।” আরেকজন আবেদনকারী আয়সা বেদির মন্তব্য, “এই ঋণ আমাদের অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে। আমাদের ফিডান (চারা) একদিন আমাদের মতোই বড় হবে — সেটি ভাবতেই ভালো লাগে।”

তুরস্ক সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ তরুণদের বিয়ে ও পারিবারিক জীবনে আগ্রহী করবে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত