অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস আরও তিন ইসরাইলি জিম্মির লাশ ফেরত দিয়েছে। ইসরাইল বলছে, রেডক্রসের মাধ্যমে কফিনগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে এবং লাশগুলোর পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস রোববার সন্ধ্যায় আরও তিন ইসরাইলি জিম্মির লাশ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে। রেডক্রসের মাধ্যমে কফিনগুলো গ্রহণ করেছে ইসরাইল, পরে সেগুলো ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা শিনবেতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খবর দিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “রেডক্রসের মাধ্যমে তিন মৃত জিম্মির কফিন গ্রহণ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।”
১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ২৮ জন জিম্মির মধ্যে ১৯ জনের লাশ ইসরাইলের কাছে ফেরত দিয়েছে। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ফেরত পাওয়া সব লাশ তাদের তালিকাভুক্ত জিম্মিদের সঙ্গে মেলেনি।
অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে শহরের অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ ও লাশ শনাক্তের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু লাশ চাপা রয়েছে, যেগুলো উদ্ধারে সময় লাগছে।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে, এবং এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রয়ে গেছে। চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট এখনো কাটেনি।
নতুন করে তিন জিম্মির লাশ ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে গাজা সংঘাতের “মানবিক দিকের অগ্রগতি” হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ও হামলার পুনরাবৃত্তি থামানো না গেলে এই অগ্রগতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
“গাজায় শান্তির পথে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে,”—বলছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস আরও তিন ইসরাইলি জিম্মির লাশ ফেরত দিয়েছে। ইসরাইল বলছে, রেডক্রসের মাধ্যমে কফিনগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে এবং লাশগুলোর পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস রোববার সন্ধ্যায় আরও তিন ইসরাইলি জিম্মির লাশ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে। রেডক্রসের মাধ্যমে কফিনগুলো গ্রহণ করেছে ইসরাইল, পরে সেগুলো ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা শিনবেতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খবর দিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “রেডক্রসের মাধ্যমে তিন মৃত জিম্মির কফিন গ্রহণ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।”
১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ২৮ জন জিম্মির মধ্যে ১৯ জনের লাশ ইসরাইলের কাছে ফেরত দিয়েছে। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ফেরত পাওয়া সব লাশ তাদের তালিকাভুক্ত জিম্মিদের সঙ্গে মেলেনি।
অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে শহরের অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ ও লাশ শনাক্তের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু লাশ চাপা রয়েছে, যেগুলো উদ্ধারে সময় লাগছে।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে, এবং এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রয়ে গেছে। চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট এখনো কাটেনি।
নতুন করে তিন জিম্মির লাশ ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে গাজা সংঘাতের “মানবিক দিকের অগ্রগতি” হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ও হামলার পুনরাবৃত্তি থামানো না গেলে এই অগ্রগতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
“গাজায় শান্তির পথে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে,”—বলছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস।

আপনার মতামত লিখুন