বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আরবি ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি, নেপথ্যে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা?

আরব দেশগুলোতে ইহুদিদের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলের পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আরব দেশগুলোতে ইহুদিদের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলের পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরব দেশগুলোর ইহুদি জনসংখ্যা নিয়ে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এতে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য শক্তিশালী করতেই ইসরায়েল এই সংখ্যা ব্যবহার করছে।

মার্কিন কোম্পানি “এক্স” প্ল্যাটফর্মে আরবি ভাষায় প্রকাশিত তথ্যে ইসরায়েল দাবি করেছে, আরব দেশগুলোর অধিকাংশ ইহুদির শিকড় ইসলাম-পূর্ব আরব উপদ্বীপে হলেও আজ তাদের সেখানে উপস্থিতি প্রায় বিলুপ্ত।

তাদের দেওয়া আরবি ভাষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী—

ইরাকে ১৯৪৮ সালে ছিল প্রায় ১,৩৫,০০০ ইহুদি; এখন রয়েছে ১০ জনেরও কম

লিবিয়ায় ছিল ৩৮,০০০; এখন কেউ নেই

মরক্কোতে ২,৬৫,০০০; বর্তমানে ২,১৫০

ইয়েমেনে ৬৩,০০০; বর্তমানে ৫০

মিশরে ৭৫,০০০; এখন ১০০

আলজেরিয়ায় ১,৪০,০০০; বর্তমানে ২০০

লেবাননে ৬,০০০; বর্তমানে ৫০

সিরিয়ায় ৩০,০০০; বর্তমানে ১০

তিউনিসিয়ায় ১,০৫,০০০; বর্তমানে ১,৫০০

অন্যদিকে, একই প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সংখ্যাগুলোতে দেখা যায় বড় ধরনের অমিল—

মিশরে ১,০০,০০০ ছিল, এখন মাত্র ৩

আলজেরিয়ায় ১,৪০,০০০ ছিল, এখন ৫০

লেবাননে ৭,০০০ ছিল, এখন ২০

সিরিয়ায় ৩০,০০০ ছিল, এখন ৩০

ইরাকে ১,৩৫,০০০ ছিল, এখন ৪

ইয়েমেনে ৬০,০০০ ছিল; এখন ৫

ইরানে ১,০০,০০০ ছিল; এখন ৯,৫০০

পর্যবেক্ষকদের মতে, একই তথ্যসূত্র থেকে দুই ভাষায় প্রকাশিত তথ্যের অসঙ্গতি ইসরায়েলের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরব দেশগুলো ও ইরান থেকে ইহুদিদের ‘নির্বাসন স্মরণ দিবস’কে ৩০ নভেম্বর পালনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের রাষ্ট্রঘোষণার পর বহু আরব ইহুদি সেখানে অভিবাসন নিলেও ইসরায়েল দখলকৃত প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড, সিরিয়া ও লেবাননের জমি থেকে আজও সরে যায়নি। অধিকন্তু, প্যালেস্টিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, দখল এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা ও পশ্চিম তীরে সামরিক দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত গাজার ৭০,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১,৭০,০০০ আহত হয়েছেন—যাদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। পশ্চিম তীরেও নিহত হয়েছেন ১,০৮৫ জনের বেশি এবং আটক হন ২১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আরব অঞ্চলের ইহুদি জনসংখ্যার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের আঞ্চলিক আগ্রাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হতে পারে।

বিষয় : ফিলিস্তিন ইসরায়েল ইহুদি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আরব দেশগুলোতে ইহুদিদের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলের পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরব দেশগুলোর ইহুদি জনসংখ্যা নিয়ে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এতে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য শক্তিশালী করতেই ইসরায়েল এই সংখ্যা ব্যবহার করছে।

মার্কিন কোম্পানি “এক্স” প্ল্যাটফর্মে আরবি ভাষায় প্রকাশিত তথ্যে ইসরায়েল দাবি করেছে, আরব দেশগুলোর অধিকাংশ ইহুদির শিকড় ইসলাম-পূর্ব আরব উপদ্বীপে হলেও আজ তাদের সেখানে উপস্থিতি প্রায় বিলুপ্ত।

তাদের দেওয়া আরবি ভাষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী—

ইরাকে ১৯৪৮ সালে ছিল প্রায় ১,৩৫,০০০ ইহুদি; এখন রয়েছে ১০ জনেরও কম

লিবিয়ায় ছিল ৩৮,০০০; এখন কেউ নেই

মরক্কোতে ২,৬৫,০০০; বর্তমানে ২,১৫০

ইয়েমেনে ৬৩,০০০; বর্তমানে ৫০

মিশরে ৭৫,০০০; এখন ১০০

আলজেরিয়ায় ১,৪০,০০০; বর্তমানে ২০০

লেবাননে ৬,০০০; বর্তমানে ৫০

সিরিয়ায় ৩০,০০০; বর্তমানে ১০

তিউনিসিয়ায় ১,০৫,০০০; বর্তমানে ১,৫০০

অন্যদিকে, একই প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সংখ্যাগুলোতে দেখা যায় বড় ধরনের অমিল—

মিশরে ১,০০,০০০ ছিল, এখন মাত্র ৩

আলজেরিয়ায় ১,৪০,০০০ ছিল, এখন ৫০

লেবাননে ৭,০০০ ছিল, এখন ২০

সিরিয়ায় ৩০,০০০ ছিল, এখন ৩০

ইরাকে ১,৩৫,০০০ ছিল, এখন ৪

ইয়েমেনে ৬০,০০০ ছিল; এখন ৫

ইরানে ১,০০,০০০ ছিল; এখন ৯,৫০০

পর্যবেক্ষকদের মতে, একই তথ্যসূত্র থেকে দুই ভাষায় প্রকাশিত তথ্যের অসঙ্গতি ইসরায়েলের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরব দেশগুলো ও ইরান থেকে ইহুদিদের ‘নির্বাসন স্মরণ দিবস’কে ৩০ নভেম্বর পালনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের রাষ্ট্রঘোষণার পর বহু আরব ইহুদি সেখানে অভিবাসন নিলেও ইসরায়েল দখলকৃত প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড, সিরিয়া ও লেবাননের জমি থেকে আজও সরে যায়নি। অধিকন্তু, প্যালেস্টিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, দখল এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা ও পশ্চিম তীরে সামরিক দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত গাজার ৭০,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১,৭০,০০০ আহত হয়েছেন—যাদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। পশ্চিম তীরেও নিহত হয়েছেন ১,০৮৫ জনের বেশি এবং আটক হন ২১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আরব অঞ্চলের ইহুদি জনসংখ্যার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের আঞ্চলিক আগ্রাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হতে পারে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত