বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দখলমুক্ত করার নামে নগাঁওতে বিপুল সংখ্যক মুসলিম পরিবারের উচ্ছেদ, পুনর্বাসনের দাবি

আসামের নাগাঁওয়ে উচ্ছেদ অভিযানে ১,৫০০-র বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার গৃহহারা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসামের নাগাঁওয়ে উচ্ছেদ অভিযানে ১,৫০০-র বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার গৃহহারা

আসামের নগাঁও জেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে তথাকথিত 'অবৈধ দখলদার' উচ্ছেদ অভিযানে দেড় হাজারেরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রায় ৭৯৫ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন এই অভিযান চালায়। কর্তৃপক্ষ এটিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই উচ্ছেদকে অনেকেই আসামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বাঙালি-ভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন।

নগাঁও জেলার লুটিমারি এলাকায় গত শনিবার এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। জানা যায়, প্রায় ১৫০০ পরিবারের বসবাস ছিল এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমিতে, যাদের প্রায় সবাই বাঙালি-ভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলমুক্ত করা ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ঐ অঞ্চলে মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে সাহায্য হবে।

কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ শুরুর প্রায় তিন মাস আগে পরিবারগুলোকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করেছিল। পরিবারগুলো এক মাস অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল, যা প্রশাসন মঞ্জুর করে। উচ্ছেদ অভিযানের দিন, ১,১০০-এরও বেশি পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। বাকিদের ঘরবাড়িগুলি প্রশাসনের বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা তাঁর বক্তব্য জানাতে গিয়ে বলেছেন, এখন তাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। তিনি জানান, তারা সরকারি আদেশ মেনে স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু এখন তাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন। তাদের দাবি, সরকারের উচিত ছিল থাকার জন্য একটি বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা।

২০১৬ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আসামে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যজুড়ে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানগুলির বেশিরভাগই বাঙালি-ভাষী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবার দাবি করেছে যে তাদের পূর্বপুরুষেরা কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নদীর চর এলাকার জমি হারানোর পরে তাদের পরিবার এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছিল।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আসামের নাগাঁওয়ে উচ্ছেদ অভিযানে ১,৫০০-র বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার গৃহহারা

প্রকাশের তারিখ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

আসামের নগাঁও জেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে তথাকথিত 'অবৈধ দখলদার' উচ্ছেদ অভিযানে দেড় হাজারেরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রায় ৭৯৫ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন এই অভিযান চালায়। কর্তৃপক্ষ এটিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই উচ্ছেদকে অনেকেই আসামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বাঙালি-ভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন।

নগাঁও জেলার লুটিমারি এলাকায় গত শনিবার এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। জানা যায়, প্রায় ১৫০০ পরিবারের বসবাস ছিল এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমিতে, যাদের প্রায় সবাই বাঙালি-ভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলমুক্ত করা ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ঐ অঞ্চলে মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে সাহায্য হবে।

কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ শুরুর প্রায় তিন মাস আগে পরিবারগুলোকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করেছিল। পরিবারগুলো এক মাস অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল, যা প্রশাসন মঞ্জুর করে। উচ্ছেদ অভিযানের দিন, ১,১০০-এরও বেশি পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। বাকিদের ঘরবাড়িগুলি প্রশাসনের বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা তাঁর বক্তব্য জানাতে গিয়ে বলেছেন, এখন তাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। তিনি জানান, তারা সরকারি আদেশ মেনে স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু এখন তাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন। তাদের দাবি, সরকারের উচিত ছিল থাকার জন্য একটি বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা।

২০১৬ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আসামে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যজুড়ে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানগুলির বেশিরভাগই বাঙালি-ভাষী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবার দাবি করেছে যে তাদের পূর্বপুরুষেরা কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নদীর চর এলাকার জমি হারানোর পরে তাদের পরিবার এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছিল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত