বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আংশিক ভিডিও প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, সব অতিথি দেশকে স্বাগত জানানোর রীতি ছিল বলে দাবি আয়োজকদের

আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০ সেকেন্ডের একটি আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে সম্মেলনের আয়োজক কমিটি দাবি করেছে, এটি ছিল অংশগ্রহণকারী সব দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানোর প্রচলিত রীতির অংশ, এবং কেবল 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' প্রচার করা একটি মহলের উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা। পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও মনে করছেন আয়োজকরা।

গত রবিবার সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গার সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাওতুল কোরআন ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও পাকিস্তান, মিশর, ইরান, ফিলিপাইন ও তুরস্কসহ একাধিক দেশের ক্বারি ও বক্তারা এতে অংশ নেন।

সম্মেলনের আয়োজক কমিটির ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানানোর অংশ হিসেবে প্রচলিত রীতি মেনে প্রতিটি অতিথি দেশের নাম ধরে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। দেশের নাম উচ্চারণের পর দর্শকরা 'জিন্দাবাদ' ধ্বনিতে সাড়া দেন। একইভাবে বাংলাদেশকেও স্লোগানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান সাওতুল কোরআন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আহ্বায়ক ক্বারী এইচএম তাওহিদ আমার দেশকে বলেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি মনে করেন, ভিডিওর আংশিক অংশ প্রচার করে অপ্রয়োজনীয় অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে এবং ঘটনার স্বাভাবিক প্রেক্ষাপট বিকৃত করা হচ্ছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হাত উঁচু করে স্লোগান ধরা ব্যক্তি ক্বারী এমদাদ জানান, রাত সাড়ে আটটায় যখন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিরা মঞ্চে প্রবেশ করছিলেন, তখন তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। আগত অতিথিদের সম্মান জানাতে তাদের নিজ নিজ দেশের নাম ধরে তাৎক্ষণিকভাবে স্লোগান দিয়েছিলেন।

ক্বিরাত সম্মেলনে উপস্থিত মাইটভাঙ্গার স্থানীয় বাসিন্দা ফাহাদ চৌধুরীও একই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানজুড়েই পাকিস্তান, মিশর, ফিলিপাইন, ইরান ও তুরস্ক—সব দেশের নাম ধরে স্লোগান দেওয়া হয় এবং দর্শকরাও একযোগে সাড়া দেয়। তার মতে, সামাজিক মাধ্যমে কেবল একটি অংশ ছড়িয়ে দেওয়ায় পুরো পরিস্থিতি ভুলভাবে বোঝা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত অন্য একটি ভিডিওতেও পাকিস্তানসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের নামে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে সংবেদনশীল ঘটনা বলে মনে করছেন, আবার অনেকেই এটিকে উদ্দেশ্যমূলক বিকৃতি বলছেন। সন্দ্বীপের নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা এ বিষয়ে বলেন, এই ঘটনাটি কাজে লাগিয়ে কেউ যেন সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা গেলেও আয়োজকরা বারবার এটিকে প্রেক্ষাপটহীন উপস্থাপন এবং মহলবিশেষের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা বলে দাবি করছেন।

বিষয় : কেরাত সম্মেলন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা

প্রকাশের তারিখ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০ সেকেন্ডের একটি আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে সম্মেলনের আয়োজক কমিটি দাবি করেছে, এটি ছিল অংশগ্রহণকারী সব দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানোর প্রচলিত রীতির অংশ, এবং কেবল 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' প্রচার করা একটি মহলের উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা। পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও মনে করছেন আয়োজকরা।

গত রবিবার সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গার সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাওতুল কোরআন ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও পাকিস্তান, মিশর, ইরান, ফিলিপাইন ও তুরস্কসহ একাধিক দেশের ক্বারি ও বক্তারা এতে অংশ নেন।

সম্মেলনের আয়োজক কমিটির ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানানোর অংশ হিসেবে প্রচলিত রীতি মেনে প্রতিটি অতিথি দেশের নাম ধরে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। দেশের নাম উচ্চারণের পর দর্শকরা 'জিন্দাবাদ' ধ্বনিতে সাড়া দেন। একইভাবে বাংলাদেশকেও স্লোগানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান সাওতুল কোরআন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আহ্বায়ক ক্বারী এইচএম তাওহিদ আমার দেশকে বলেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি মনে করেন, ভিডিওর আংশিক অংশ প্রচার করে অপ্রয়োজনীয় অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে এবং ঘটনার স্বাভাবিক প্রেক্ষাপট বিকৃত করা হচ্ছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হাত উঁচু করে স্লোগান ধরা ব্যক্তি ক্বারী এমদাদ জানান, রাত সাড়ে আটটায় যখন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিরা মঞ্চে প্রবেশ করছিলেন, তখন তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। আগত অতিথিদের সম্মান জানাতে তাদের নিজ নিজ দেশের নাম ধরে তাৎক্ষণিকভাবে স্লোগান দিয়েছিলেন।

ক্বিরাত সম্মেলনে উপস্থিত মাইটভাঙ্গার স্থানীয় বাসিন্দা ফাহাদ চৌধুরীও একই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানজুড়েই পাকিস্তান, মিশর, ফিলিপাইন, ইরান ও তুরস্ক—সব দেশের নাম ধরে স্লোগান দেওয়া হয় এবং দর্শকরাও একযোগে সাড়া দেয়। তার মতে, সামাজিক মাধ্যমে কেবল একটি অংশ ছড়িয়ে দেওয়ায় পুরো পরিস্থিতি ভুলভাবে বোঝা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত অন্য একটি ভিডিওতেও পাকিস্তানসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের নামে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে সংবেদনশীল ঘটনা বলে মনে করছেন, আবার অনেকেই এটিকে উদ্দেশ্যমূলক বিকৃতি বলছেন। সন্দ্বীপের নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা এ বিষয়ে বলেন, এই ঘটনাটি কাজে লাগিয়ে কেউ যেন সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা গেলেও আয়োজকরা বারবার এটিকে প্রেক্ষাপটহীন উপস্থাপন এবং মহলবিশেষের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা বলে দাবি করছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত