অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে এক হামলাকারীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে বহু প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক মুসলিম ব্যক্তি। তাঁর নাম আহমেদ আল আহমেদ। বিশ্বজুড়ে তাঁকে ‘হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
বন্ডি বিচে রোববার সন্ধ্যায় সংঘটিত এক ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ৪২ জন আহত হন। অস্ট্রেলীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ও তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে নবীদ ওই হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই সাজিদ আকরাম নিহত হন এবং তাঁর ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এই রক্তক্ষয়ী হামলার মাঝেই সামনে আসেন ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর গুলি শেষ হয়ে গেলে আহমেদ পেছন দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার রাইফেল ছিনিয়ে নেন। তবে এই সাহসী পদক্ষেপের সময় তিনি নিজেও চার থেকে পাঁচবার গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর কাঁধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একাধিক বুলেট এখনও রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা মোহাম্মদ ফাতেহ আল আহমেদ ও মা মালাকেহ হাসান আল আহমেদ।
আহমেদ সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশের আল-নায়রাব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেন এবং বর্তমানে একজন ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক—তাদের বয়স তিন ও ছয় বছর।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদের মা বলেন, “সে দেখেছিল মানুষ মারা যাচ্ছে। যখন হামলাকারীর গুলি শেষ হয়, তখনই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে তখন নিজের কথা ভাবেনি।”
আহমেদের বাবা বলেন, “সে কখনো ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে না। অস্ট্রেলিয়ায় সে সবাইকে সমান মনে করে।” তাঁর এই মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, যিনি আহমেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হিরো’ আখ্যা দেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় আহমেদ একজন বন্দুকধারীর পেছন থেকে এসে তাকে কাবু করে অস্ত্র ছিনিয়ে নিচ্ছেন। ভিডিওটি ইতোমধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
আহমেদের প্রথম অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই হোজায় আলকাঞ্জ। প্রয়োজনে আরও অস্ত্রোপচার হতে পারে। এদিকে তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।
অস্ট্রেলীয় পুলিশ স্বীকার করেছে, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আহমেদের এই হস্তক্ষেপ আরও বড় প্রাণহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিষয় : অস্ট্রেলিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে এক হামলাকারীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে বহু প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক মুসলিম ব্যক্তি। তাঁর নাম আহমেদ আল আহমেদ। বিশ্বজুড়ে তাঁকে ‘হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
বন্ডি বিচে রোববার সন্ধ্যায় সংঘটিত এক ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ৪২ জন আহত হন। অস্ট্রেলীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ও তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে নবীদ ওই হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই সাজিদ আকরাম নিহত হন এবং তাঁর ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এই রক্তক্ষয়ী হামলার মাঝেই সামনে আসেন ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর গুলি শেষ হয়ে গেলে আহমেদ পেছন দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার রাইফেল ছিনিয়ে নেন। তবে এই সাহসী পদক্ষেপের সময় তিনি নিজেও চার থেকে পাঁচবার গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর কাঁধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একাধিক বুলেট এখনও রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা মোহাম্মদ ফাতেহ আল আহমেদ ও মা মালাকেহ হাসান আল আহমেদ।
আহমেদ সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশের আল-নায়রাব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেন এবং বর্তমানে একজন ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক—তাদের বয়স তিন ও ছয় বছর।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদের মা বলেন, “সে দেখেছিল মানুষ মারা যাচ্ছে। যখন হামলাকারীর গুলি শেষ হয়, তখনই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে তখন নিজের কথা ভাবেনি।”
আহমেদের বাবা বলেন, “সে কখনো ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে না। অস্ট্রেলিয়ায় সে সবাইকে সমান মনে করে।” তাঁর এই মানবিক ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, যিনি আহমেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হিরো’ আখ্যা দেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় আহমেদ একজন বন্দুকধারীর পেছন থেকে এসে তাকে কাবু করে অস্ত্র ছিনিয়ে নিচ্ছেন। ভিডিওটি ইতোমধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
আহমেদের প্রথম অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই হোজায় আলকাঞ্জ। প্রয়োজনে আরও অস্ত্রোপচার হতে পারে। এদিকে তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।
অস্ট্রেলীয় পুলিশ স্বীকার করেছে, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আহমেদের এই হস্তক্ষেপ আরও বড় প্রাণহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন