বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বাংলাদেশকে ‘ইসরায়েল-গাজা’ পরিস্থিতির মতো শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে এক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ইসরায়েল যেভাবে গাজাকে শিক্ষা দিয়েছে, এসব মানুষকেও সেভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত। আমাদের ১০০ কোটি হিন্দু এবং হিন্দু স্বার্থ রক্ষাকারী সরকারকে অবশ্যই এদের শিক্ষা দিতে হবে, ঠিক যেমন আমরা ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পাকিস্তানকে শিক্ষা দিয়েছিলাম।”
বাংলাদেশে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলায় দিপু চন্দ্র দাস (২৭) নামক এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে ভারতে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। এরপর বড়দিনের প্রাক্কালে অমৃত মন্ডল নামে আরেক হিন্দু যুবক নিহতের খবর পাওয়া যায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতা ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন করে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিতে পারে, তখন হিন্দুদের ওপর কেন হামলা হচ্ছে? তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীকে নিয়ে হাইকমিশন ঘেরাও করা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে ‘নগ্ন ঘৃণ্য বক্তব্য’ (Hate Speech) হিসেবে অভিহিত করেছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি এক প্রকার জাতিগত নিধন ও গণহত্যার উস্কানি। বিজেপি ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি করছে বলেও তারা অভিযোগ তোলে। তবে এখন পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর বা আইনি পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
বিষয় : ভারত পশ্চিমবঙ্গ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বাংলাদেশকে ‘ইসরায়েল-গাজা’ পরিস্থিতির মতো শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে এক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ইসরায়েল যেভাবে গাজাকে শিক্ষা দিয়েছে, এসব মানুষকেও সেভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত। আমাদের ১০০ কোটি হিন্দু এবং হিন্দু স্বার্থ রক্ষাকারী সরকারকে অবশ্যই এদের শিক্ষা দিতে হবে, ঠিক যেমন আমরা ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পাকিস্তানকে শিক্ষা দিয়েছিলাম।”
বাংলাদেশে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলায় দিপু চন্দ্র দাস (২৭) নামক এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে ভারতে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। এরপর বড়দিনের প্রাক্কালে অমৃত মন্ডল নামে আরেক হিন্দু যুবক নিহতের খবর পাওয়া যায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতা ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন করে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিতে পারে, তখন হিন্দুদের ওপর কেন হামলা হচ্ছে? তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীকে নিয়ে হাইকমিশন ঘেরাও করা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে ‘নগ্ন ঘৃণ্য বক্তব্য’ (Hate Speech) হিসেবে অভিহিত করেছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি এক প্রকার জাতিগত নিধন ও গণহত্যার উস্কানি। বিজেপি ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি করছে বলেও তারা অভিযোগ তোলে। তবে এখন পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর বা আইনি পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন