তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজিত এক বিশাল গণজমায়েতে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, এই গণহত্যা ভুলে গেলে ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় আবার ফিরে আসবে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবিক সহায়তা বন্ধ এবং বিশ্বব্যবস্থার নৈতিক ব্যর্থতার চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।
তুরস্কের ‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিসেমিনেশন অব নলেজ’-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান বলেছেন, ইস্তাম্বুলের গালাতা সেতুতে জড়ো হওয়া মানুষের ঢল ইসরায়েলের দ্বারা সংঘটিত গাজা গণহত্যাকে ভুলে যেতে দেবে না, যাতে এমন অপরাধ আর কখনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
বৃহস্পতিবার গালাতা সেতুতে ‘হিউম্যানিটি অ্যালায়েন্স’ ও ‘ন্যাশনাল উইল প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্যোগে এবং ‘তুর্কিশ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ফিলিস্তিন সংহতি পদযাত্রায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের স্লোগান ছিল— “আমরা নত হব না, নীরব থাকব না, ফিলিস্তিনকে ভুলব না।”
বিলাল এরদোয়ান বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনকে ভুলব না এবং কাউকে ভুলতে দেব না। প্রয়াত আলিয়া ইজেতবেগোভিচ বলেছিলেন— যে গণহত্যা ভুলে যাওয়া হয়, তা আবার ঘটার জন্যই অভিশপ্ত। আমরা আমাদের সংগ্রাম ছাড়ব না। গাজা, জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, গালাতা সেতুর এই সমাবেশ কেবল মানবিক সহানুভূতির প্রকাশ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে গাজা ও ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তথাকথিত নৈতিকতার দাবি করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম ব্যর্থতা উন্মোচন করেছে।
এরদোয়ান বলেন, “গাজায় যা চলছে তা কোনো যুদ্ধ নয়, কোনো দুই সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ নয়। এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই গণহত্যা কেবল হাজার হাজার টন বোমা ফেলেই নয়, বরং ক্ষুধা, তৃষ্ণা, শীত এবং মানবিক সহায়তা বন্ধ রেখে চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ ফিলিস্তিনে মানুষ চরম শীতের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে, জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন থেকেও বঞ্চিত। জেনেশুনেই একটি জালিম ব্যবস্থা মানবিক সহায়তা আটকে রেখেছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি— নিপীড়কেরূপে যেন তিনি সেই জালিমকে ধ্বংস করেন, যে ব্যক্তি এই অধঃপতিত মানসিকতার নেতৃত্ব দিচ্ছে।” (ইঙ্গিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু)
বিলাল এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধের নিজস্ব নিয়ম ও আইন রয়েছে, কিন্তু গাজায় ইসরায়েল সেই সব নিয়ম প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করছে। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করা, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং অবকাঠামো ধ্বংস— সবই স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী অবস্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “রাশিয়ার ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই বিশ্ব বুকে টেনে নিচ্ছে নেতানিয়াহুকে— যিনি এই শতাব্দীর হিটলার। এটাই পশ্চিমা সভ্যতার চরম অবক্ষয়।”
তিনি বলেন, বেসামরিক জনগণকে শাস্তি দেওয়া, বসবাসযোগ্য স্থান ধ্বংস করা এবং ক্ষুধা ও ভয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার— এসব মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
এরদোয়ান দাবি করেন, আজকের জায়নবাদ বাস্তব রূপ পেয়েছে ‘ইসরায়েলি নাৎসিবাদ’-এ। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধের দায় নিতে হবে এবং গাজা পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে দায় শুধু অপরাধীর নয়, তাদেরও যারা এই অপরাধ ঠেকাতে পারত কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধ্বংসের বোঝা ভুক্তভোগীরা বহন করতে পারে না, অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপরও চাপানো যায় না। যে ধ্বংস করেছে, তাকেই পুনর্গঠন করতে হবে।”
বিলাল এরদোয়ান গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলের বিচার এবং তেল আবিবকে যুদ্ধক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি গণহত্যা যন্ত্রকে সমর্থনকারী কোম্পানিগুলোর পণ্য বর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “অবিচার শুধু অস্ত্র দিয়ে টিকে থাকে না, বরং অর্থের প্রবাহের মাধ্যমেও টিকে থাকে।”
বিষয় : তুরস্ক বিলাল এরদোয়ান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজিত এক বিশাল গণজমায়েতে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, এই গণহত্যা ভুলে গেলে ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় আবার ফিরে আসবে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবিক সহায়তা বন্ধ এবং বিশ্বব্যবস্থার নৈতিক ব্যর্থতার চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।
তুরস্কের ‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিসেমিনেশন অব নলেজ’-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান বলেছেন, ইস্তাম্বুলের গালাতা সেতুতে জড়ো হওয়া মানুষের ঢল ইসরায়েলের দ্বারা সংঘটিত গাজা গণহত্যাকে ভুলে যেতে দেবে না, যাতে এমন অপরাধ আর কখনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
বৃহস্পতিবার গালাতা সেতুতে ‘হিউম্যানিটি অ্যালায়েন্স’ ও ‘ন্যাশনাল উইল প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্যোগে এবং ‘তুর্কিশ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ফিলিস্তিন সংহতি পদযাত্রায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের স্লোগান ছিল— “আমরা নত হব না, নীরব থাকব না, ফিলিস্তিনকে ভুলব না।”
বিলাল এরদোয়ান বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনকে ভুলব না এবং কাউকে ভুলতে দেব না। প্রয়াত আলিয়া ইজেতবেগোভিচ বলেছিলেন— যে গণহত্যা ভুলে যাওয়া হয়, তা আবার ঘটার জন্যই অভিশপ্ত। আমরা আমাদের সংগ্রাম ছাড়ব না। গাজা, জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, গালাতা সেতুর এই সমাবেশ কেবল মানবিক সহানুভূতির প্রকাশ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে গাজা ও ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তথাকথিত নৈতিকতার দাবি করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম ব্যর্থতা উন্মোচন করেছে।
এরদোয়ান বলেন, “গাজায় যা চলছে তা কোনো যুদ্ধ নয়, কোনো দুই সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ নয়। এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই গণহত্যা কেবল হাজার হাজার টন বোমা ফেলেই নয়, বরং ক্ষুধা, তৃষ্ণা, শীত এবং মানবিক সহায়তা বন্ধ রেখে চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ ফিলিস্তিনে মানুষ চরম শীতের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে, জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন থেকেও বঞ্চিত। জেনেশুনেই একটি জালিম ব্যবস্থা মানবিক সহায়তা আটকে রেখেছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি— নিপীড়কেরূপে যেন তিনি সেই জালিমকে ধ্বংস করেন, যে ব্যক্তি এই অধঃপতিত মানসিকতার নেতৃত্ব দিচ্ছে।” (ইঙ্গিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু)
বিলাল এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধের নিজস্ব নিয়ম ও আইন রয়েছে, কিন্তু গাজায় ইসরায়েল সেই সব নিয়ম প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করছে। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করা, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং অবকাঠামো ধ্বংস— সবই স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী অবস্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “রাশিয়ার ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই বিশ্ব বুকে টেনে নিচ্ছে নেতানিয়াহুকে— যিনি এই শতাব্দীর হিটলার। এটাই পশ্চিমা সভ্যতার চরম অবক্ষয়।”
তিনি বলেন, বেসামরিক জনগণকে শাস্তি দেওয়া, বসবাসযোগ্য স্থান ধ্বংস করা এবং ক্ষুধা ও ভয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার— এসব মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
এরদোয়ান দাবি করেন, আজকের জায়নবাদ বাস্তব রূপ পেয়েছে ‘ইসরায়েলি নাৎসিবাদ’-এ। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধের দায় নিতে হবে এবং গাজা পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে দায় শুধু অপরাধীর নয়, তাদেরও যারা এই অপরাধ ঠেকাতে পারত কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধ্বংসের বোঝা ভুক্তভোগীরা বহন করতে পারে না, অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপরও চাপানো যায় না। যে ধ্বংস করেছে, তাকেই পুনর্গঠন করতে হবে।”
বিলাল এরদোয়ান গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলের বিচার এবং তেল আবিবকে যুদ্ধক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি গণহত্যা যন্ত্রকে সমর্থনকারী কোম্পানিগুলোর পণ্য বর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “অবিচার শুধু অস্ত্র দিয়ে টিকে থাকে না, বরং অর্থের প্রবাহের মাধ্যমেও টিকে থাকে।”

আপনার মতামত লিখুন