বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শন করে গাজায় সহায়তা প্রবেশে বিলম্ব ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানালেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী

গাজ্জায় জরুরি মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজ্জায় জরুরি মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির

গাজা উপত্যকায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। মিসর–গাজা সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং পরিদর্শন করে তিনি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত কর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জোলি বলেন, গাজায় বসবাসরত পরিবারগুলো চরম সংকটে রয়েছে এবং সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

মিসরের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তার সঙ্গে ছিলেন মিসরের নর্থ সিনাই প্রদেশের গভর্নর খালিদ মুজাভির এবং দেশটির সাবেক অভিবাসনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাবিলা মাকরেম

রাফাহ সীমান্তে মানবিক সহায়তা কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জোলি গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে চলমান প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “গাজায় বসবাসরত পরিবারগুলো বর্তমানে এক মারাত্মক মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সেখানে আরও বেশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।”

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিসরের এল-আরিশ শহরে অবস্থিত মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টের লজিস্টিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গাজায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুত মানবিক সহায়তার অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফর গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সচেতনতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

লজিস্টিক কেন্দ্রে অবস্থানকালে জোলি নিজ হাতে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা প্যাকেট প্রস্তুত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও স্বেচ্ছাসেবীরা যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসনীয়।

এ সময় তিনি মিসরের বাইরে থেকে আসা মানবিক সহায়তা কীভাবে গাজায় প্রবেশ করে, কোথায় ও কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে গাজায় সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বিলম্ব ও সীমাবদ্ধতাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

মিসরীয় কর্মকর্তারা জানান, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি শিগগিরই এল-আরিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি যুদ্ধবিরতির আওতায় মিসরে চিকিৎসাধীন ফিলিস্তিনি আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অবস্থা সরেজমিনে দেখবেন।

উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া, গাজায় প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ‘ব্লু লাইন’ থেকে ‘ইয়েলো লাইন’-এ সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সহায়তা প্রবেশ কখনোই নির্ধারিত সংখ্যায় পৌঁছায়নি, রাফাহ সীমান্ত পুরোপুরি খোলা হয়নি এবং হামলাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি।

এই বাস্তবতায় অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সফর গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও মনোযোগ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয় : গাজা রাফাহ মিসর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজ্জায় জরুরি মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজা উপত্যকায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। মিসর–গাজা সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং পরিদর্শন করে তিনি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত কর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জোলি বলেন, গাজায় বসবাসরত পরিবারগুলো চরম সংকটে রয়েছে এবং সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

মিসরের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তার সঙ্গে ছিলেন মিসরের নর্থ সিনাই প্রদেশের গভর্নর খালিদ মুজাভির এবং দেশটির সাবেক অভিবাসনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাবিলা মাকরেম

রাফাহ সীমান্তে মানবিক সহায়তা কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জোলি গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে চলমান প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “গাজায় বসবাসরত পরিবারগুলো বর্তমানে এক মারাত্মক মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সেখানে আরও বেশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।”

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিসরের এল-আরিশ শহরে অবস্থিত মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টের লজিস্টিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গাজায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুত মানবিক সহায়তার অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফর গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সচেতনতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

লজিস্টিক কেন্দ্রে অবস্থানকালে জোলি নিজ হাতে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা প্যাকেট প্রস্তুত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও স্বেচ্ছাসেবীরা যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসনীয়।

এ সময় তিনি মিসরের বাইরে থেকে আসা মানবিক সহায়তা কীভাবে গাজায় প্রবেশ করে, কোথায় ও কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে গাজায় সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বিলম্ব ও সীমাবদ্ধতাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

মিসরীয় কর্মকর্তারা জানান, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি শিগগিরই এল-আরিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি যুদ্ধবিরতির আওতায় মিসরে চিকিৎসাধীন ফিলিস্তিনি আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অবস্থা সরেজমিনে দেখবেন।

উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া, গাজায় প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ‘ব্লু লাইন’ থেকে ‘ইয়েলো লাইন’-এ সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সহায়তা প্রবেশ কখনোই নির্ধারিত সংখ্যায় পৌঁছায়নি, রাফাহ সীমান্ত পুরোপুরি খোলা হয়নি এবং হামলাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি।

এই বাস্তবতায় অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সফর গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও মনোযোগ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত