ইসরায়েলি নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও বর্ণবাদী বৈষম্য ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ভয়ে ভীত এক ফিলিস্তিনি যুবককে রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করেছে যুক্তরাজ্য। হাসান (২৬) (ছদ্ম) নামের ওই যুবকই সম্ভবত প্রথম ইসরায়েলি পাসপোর্টধারী ফিলিস্তিনি, যাকে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিপীড়নের শিকার হতে পারেন’ এমন যুক্তিতে শরণার্থী মর্যাদা দিল। দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করে এই জয় অর্জিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) দীর্ঘ টালবাহানার পর স্বীকার করে নিয়েছে যে, হাসানকে যদি ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হয়, তবে তিনি সেখানে ভয়াবহ পদ্ধতিগত নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। হাসান ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সীমানার ভেতরে থেকে যাওয়া সেই ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা বর্তমানে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ (১.৯ মিলিয়নেরও বেশি)।
হাসান শৈশবে যুক্তরাজ্যে এলেও পরবর্তীতে তাকে ভিসাজনিত জটিলতায় ইসরায়েলে ফেরত যেতে হয়েছিল। ২০১৯ সালে তিনি পুনরায় যুক্তরাজ্যে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তার আবেদনের মূল ভিত্তি ছিল ইসরায়েলের ‘অ্যাপার্থাইড’ বা বর্ণবাদী শাসন ব্যবস্থা এবং লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তার সরব প্রতিবাদ। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলে ফিরলে তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হবে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে হোম অফিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে হাসানের আবেদন গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি রাজনৈতিক কারণে এই সিদ্ধান্ত রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, মন্ত্রীর দপ্তর থেকে হাসানকে দেওয়া শরণার্থী মর্যাদা প্রত্যাহারের উপায় খুঁজতে কর্মকর্তাদের চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন অনুযায়ী একবার ঝুঁকি প্রমাণিত হলে মন্ত্রী তা বাতিল করতে পারেন না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থাকে 'অ্যাপার্থাইড' হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। হাসানের এই মামলায় ব্রিটিশ হোম অফিস অভ্যন্তরীণভাবে স্বীকার করেছে যে, ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ভূমি দখল, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হন।
শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পর হাসান বলেন, "সাত বছর ধরে আমি কাজ বা পড়াশোনার অধিকার ছাড়াই অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছি। ইসরায়েল একটি গণহত্যাকারী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র যা ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালায়। ব্রিটিশ সরকার এখন আর এই সত্য অস্বীকার করতে পারবে না।"
হাসানের আইনজীবী তাহের গুলামহুসেন বলেন, "তিনজন হোম সেক্রেটারি রাজনৈতিক কারণে এই মামলার রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে।" এই রায় ভবিষ্যতে ইসরায়েলি নাগরিকত্ব থাকা অন্যান্য নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জন্য আশ্রয়ের পথ প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয় : যুক্তরাজ্য

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরায়েলি নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও বর্ণবাদী বৈষম্য ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ভয়ে ভীত এক ফিলিস্তিনি যুবককে রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করেছে যুক্তরাজ্য। হাসান (২৬) (ছদ্ম) নামের ওই যুবকই সম্ভবত প্রথম ইসরায়েলি পাসপোর্টধারী ফিলিস্তিনি, যাকে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিপীড়নের শিকার হতে পারেন’ এমন যুক্তিতে শরণার্থী মর্যাদা দিল। দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করে এই জয় অর্জিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) দীর্ঘ টালবাহানার পর স্বীকার করে নিয়েছে যে, হাসানকে যদি ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হয়, তবে তিনি সেখানে ভয়াবহ পদ্ধতিগত নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। হাসান ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সীমানার ভেতরে থেকে যাওয়া সেই ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা বর্তমানে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ (১.৯ মিলিয়নেরও বেশি)।
হাসান শৈশবে যুক্তরাজ্যে এলেও পরবর্তীতে তাকে ভিসাজনিত জটিলতায় ইসরায়েলে ফেরত যেতে হয়েছিল। ২০১৯ সালে তিনি পুনরায় যুক্তরাজ্যে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তার আবেদনের মূল ভিত্তি ছিল ইসরায়েলের ‘অ্যাপার্থাইড’ বা বর্ণবাদী শাসন ব্যবস্থা এবং লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তার সরব প্রতিবাদ। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলে ফিরলে তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হবে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে হোম অফিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে হাসানের আবেদন গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি রাজনৈতিক কারণে এই সিদ্ধান্ত রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, মন্ত্রীর দপ্তর থেকে হাসানকে দেওয়া শরণার্থী মর্যাদা প্রত্যাহারের উপায় খুঁজতে কর্মকর্তাদের চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন অনুযায়ী একবার ঝুঁকি প্রমাণিত হলে মন্ত্রী তা বাতিল করতে পারেন না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থাকে 'অ্যাপার্থাইড' হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। হাসানের এই মামলায় ব্রিটিশ হোম অফিস অভ্যন্তরীণভাবে স্বীকার করেছে যে, ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ভূমি দখল, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হন।
শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পর হাসান বলেন, "সাত বছর ধরে আমি কাজ বা পড়াশোনার অধিকার ছাড়াই অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছি। ইসরায়েল একটি গণহত্যাকারী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র যা ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালায়। ব্রিটিশ সরকার এখন আর এই সত্য অস্বীকার করতে পারবে না।"
হাসানের আইনজীবী তাহের গুলামহুসেন বলেন, "তিনজন হোম সেক্রেটারি রাজনৈতিক কারণে এই মামলার রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে।" এই রায় ভবিষ্যতে ইসরায়েলি নাগরিকত্ব থাকা অন্যান্য নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জন্য আশ্রয়ের পথ প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন