বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

জনসংখ্যার ক্রমাগত হ্রাস ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি চীনের অর্থনীতি ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

চীনে জন্মহারে ধস: ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন, দ্রুত কমছে জনসংখ্যা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনে জন্মহারে ধস: ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন, দ্রুত কমছে জনসংখ্যা

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ চীনে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জন্মহার ১৬.৯ শতাংশ কমেছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী জনতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর চরম আঘাত হানতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস (NBS) ২০২৫ সালের জনসংখ্যা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে চীনে মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন (৭৯.২ লাখ) শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯.৫৪ মিলিয়ন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে নবজাতকের সংখ্যা ১৬.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের জন্মহার প্রতি হাজারে মাত্র ৫.৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৯ সালে আধুনিক চীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই সর্বনিম্ন জন্মহার। একই সময়ে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে মৃত্যু সংখ্যা ১০.৯৩ মিলিয়ন থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৩১ মিলিয়নে।

জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা

চীনের মোট জনসংখ্যা এখন ১ বিলিয়ন ৪০৪ মিলিয়ন ৮৯০ হাজারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন কম। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে চীনের জনসংখ্যা ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথমবারের মতো কমতে শুরু করেছিল এবং বর্তমানে এটি একটি স্থায়ী নিম্নমুখী প্রবণতায় রূপ নিয়েছে।

বয়স্ক জনসংখ্যা ও শ্রমবাজারের সংকট

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চীনের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ এখন ৬০ বছরের বেশি বয়সী। এর মধ্যে ৬৫ ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ২২৩.৬৫ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ১৫.৯ শতাংশ। অন্যদিকে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর (১৬-৫৯ বছর) সংখ্যা কমে ৮৫১.৩৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে চীনের উৎপাদন ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন এই অনাগ্রহ?

চীন সরকার ১৯৮০-এর দশকের কঠোর 'এক সন্তান নীতি' থেকে সরে এসে ২০১৬ সালে দুই সন্তান এবং ২০২১ সালে তিন সন্তান নীতি গ্রহণ করে। তবে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিশুদের লালন-পালনের উচ্চ খরচ এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে নতুন প্রজন্ম সন্তান নিতে অনীহা দেখাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরের দিকে মানুষের অভিবাসন বাড়লেও জীবনযাত্রার জটিলতা জন্মহার বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : চীন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


চীনে জন্মহারে ধস: ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন, দ্রুত কমছে জনসংখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ চীনে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে ১৯৪৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জন্মহার ১৬.৯ শতাংশ কমেছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী জনতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর চরম আঘাত হানতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস (NBS) ২০২৫ সালের জনসংখ্যা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে চীনে মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন (৭৯.২ লাখ) শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯.৫৪ মিলিয়ন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে নবজাতকের সংখ্যা ১৬.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের জন্মহার প্রতি হাজারে মাত্র ৫.৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৯ সালে আধুনিক চীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই সর্বনিম্ন জন্মহার। একই সময়ে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে মৃত্যু সংখ্যা ১০.৯৩ মিলিয়ন থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৩১ মিলিয়নে।

জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা

চীনের মোট জনসংখ্যা এখন ১ বিলিয়ন ৪০৪ মিলিয়ন ৮৯০ হাজারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন কম। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে চীনের জনসংখ্যা ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথমবারের মতো কমতে শুরু করেছিল এবং বর্তমানে এটি একটি স্থায়ী নিম্নমুখী প্রবণতায় রূপ নিয়েছে।

বয়স্ক জনসংখ্যা ও শ্রমবাজারের সংকট

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চীনের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ এখন ৬০ বছরের বেশি বয়সী। এর মধ্যে ৬৫ ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ২২৩.৬৫ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ১৫.৯ শতাংশ। অন্যদিকে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর (১৬-৫৯ বছর) সংখ্যা কমে ৮৫১.৩৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে চীনের উৎপাদন ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন এই অনাগ্রহ?

চীন সরকার ১৯৮০-এর দশকের কঠোর 'এক সন্তান নীতি' থেকে সরে এসে ২০১৬ সালে দুই সন্তান এবং ২০২১ সালে তিন সন্তান নীতি গ্রহণ করে। তবে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিশুদের লালন-পালনের উচ্চ খরচ এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে নতুন প্রজন্ম সন্তান নিতে অনীহা দেখাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরের দিকে মানুষের অভিবাসন বাড়লেও জীবনযাত্রার জটিলতা জন্মহার বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত