বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের জেরে ইউরোপজুড়ে ইসরায়েলি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ও অব্যাহত বয়কট অভিযানের ফলশ্রুতিতে এই সিদ্ধান্ত

বেলজিয়ামে ইসরায়েলি ফুড চেইন 'বোকার তোভ' বন্ধ: বয়কট ও জনরোষের মুখে দেউলিয়া ঘোষণা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেলজিয়ামে ইসরায়েলি ফুড চেইন 'বোকার তোভ' বন্ধ: বয়কট ও জনরোষের মুখে দেউলিয়া ঘোষণা

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী শুরু হওয়া বয়কট আন্দোলনের মুখে বেলজিয়ামে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে জনপ্রিয় ইসরায়েলি রেস্তোরাঁ চেইন 'বোকার তোভ' (Boker Tov)। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা, গ্রাহক সংকট এবং তীব্র জনরোষের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। কেবল বেলজিয়াম নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি খাবারের চেইন 'বোকার তোভ' একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। ২০২০ সালে টম সাস এবং লর্ডি দার্দিকম্যান দম্পতির হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই চেইনটির মোট চারটি শাখা ছিল। 'তেল আবিবের রন্ধনশৈলীর ভালোবাসার গল্প' স্লোগান নিয়ে শুরু হলেও গত দুই বছরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম শুরু হলে ইউরোপজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বয়কট আন্দোলন তীব্র হয়। বোকার তোভ-এর মালিক টম সাস জানান, তাদের রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত বিক্ষোভ, অনলাইন নেতিবাচক রিভিউ এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,০০০টি ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে দেওয়া, স্টিকার লাগানো এবং গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করার ফলে তাদের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা রেস্তোরাঁ থেকে 'তেল আবিব' নামটি সরিয়ে ফেলার চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও মানসিক চাপে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করতে বাধ্য হন।

বোকার তোভ-এর পতনের নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক কারণ নয়, বরং 'ইসরায়েলি খাবার' নামকরণের বিতর্কটিও জোরালো ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘকাল ধরে ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন যে, ফালাফেল, হুমুস এবং শাওয়ারমার মতো তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোকে ইসরায়েলি খাবার হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রচার করা হচ্ছে। এই 'সাংস্কৃতিক দখলদারিত্ব' (Cultural Appropriation) নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সচেতন গ্রাহকরা এই ধরনের রেস্তোরাঁ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কেবল বেলজিয়াম নয়, পর্তুগালের লিসবনে 'তানতুরা' নামক আরেকটি দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি রেস্তোরাঁও একই কারণে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটন ও রন্ধনশিল্পের মাধ্যমে ইসরায়েলি ভাবমূর্তি প্রচারের যে চেষ্টা গত এক দশকে ইউরোপে দেখা গিয়েছিল, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

বোকার তোভ-এর মালিকরা সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, তারা আপাতত এই অধ্যায় শেষ করছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন কিছু নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত গাজা ইস্যুতে বিশ্বজনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে থাকবে, ততক্ষণ এই ধরণের ব্যবসা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

বিষয় : বেলজিয়াম

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বেলজিয়ামে ইসরায়েলি ফুড চেইন 'বোকার তোভ' বন্ধ: বয়কট ও জনরোষের মুখে দেউলিয়া ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী শুরু হওয়া বয়কট আন্দোলনের মুখে বেলজিয়ামে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে জনপ্রিয় ইসরায়েলি রেস্তোরাঁ চেইন 'বোকার তোভ' (Boker Tov)। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা, গ্রাহক সংকট এবং তীব্র জনরোষের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। কেবল বেলজিয়াম নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি খাবারের চেইন 'বোকার তোভ' একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। ২০২০ সালে টম সাস এবং লর্ডি দার্দিকম্যান দম্পতির হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই চেইনটির মোট চারটি শাখা ছিল। 'তেল আবিবের রন্ধনশৈলীর ভালোবাসার গল্প' স্লোগান নিয়ে শুরু হলেও গত দুই বছরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম শুরু হলে ইউরোপজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বয়কট আন্দোলন তীব্র হয়। বোকার তোভ-এর মালিক টম সাস জানান, তাদের রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত বিক্ষোভ, অনলাইন নেতিবাচক রিভিউ এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,০০০টি ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে দেওয়া, স্টিকার লাগানো এবং গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করার ফলে তাদের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা রেস্তোরাঁ থেকে 'তেল আবিব' নামটি সরিয়ে ফেলার চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও মানসিক চাপে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করতে বাধ্য হন।

বোকার তোভ-এর পতনের নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক কারণ নয়, বরং 'ইসরায়েলি খাবার' নামকরণের বিতর্কটিও জোরালো ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘকাল ধরে ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন যে, ফালাফেল, হুমুস এবং শাওয়ারমার মতো তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোকে ইসরায়েলি খাবার হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রচার করা হচ্ছে। এই 'সাংস্কৃতিক দখলদারিত্ব' (Cultural Appropriation) নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সচেতন গ্রাহকরা এই ধরনের রেস্তোরাঁ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কেবল বেলজিয়াম নয়, পর্তুগালের লিসবনে 'তানতুরা' নামক আরেকটি দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি রেস্তোরাঁও একই কারণে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটন ও রন্ধনশিল্পের মাধ্যমে ইসরায়েলি ভাবমূর্তি প্রচারের যে চেষ্টা গত এক দশকে ইউরোপে দেখা গিয়েছিল, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

বোকার তোভ-এর মালিকরা সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, তারা আপাতত এই অধ্যায় শেষ করছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন কিছু নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত গাজা ইস্যুতে বিশ্বজনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে থাকবে, ততক্ষণ এই ধরণের ব্যবসা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত