বিশ্ব রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জাতিসংঘকে কার্যত অকার্যকর ঘোষণা করে নতুন এক আন্তর্জাতিক সংস্থা 'পিস কাউন্সিল' বা ‘শান্তি পরিষদ’ গঠন করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে এই পরিষদের চার্টার স্বাক্ষরিত হয়েছে। গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে গঠিত এই সংস্থায় ট্রাম্প নিজের জন্য আজীবন ভেটো ক্ষমতা ও একচ্ছত্র আধিপত্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতি এক নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো। গত ১৫ জানুয়ারি গাজা উপত্যকার জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত '২০ দফার' দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই 'শান্তি পরিষদ' (Peace Council) গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দাভোসে বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক চার্টার বা সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
জাতিসংঘের বিকল্প গড়ার চেষ্টা? বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই ট্রাম্প এই পরিষদ গঠন করেছেন। পরিষদের সনদে পরোক্ষভাবে জাতিসংঘের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, "শান্তি স্থাপনে বারবার ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্যাগ করার সাহস থাকতে হবে।" এটি একটি "অধিকতর নমনীয় এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সংস্থা" হিসেবে নিজেকে দাবি করছে।
ট্রাম্পের হাতে ‘আজীবন’ ক্ষমতা
ফাঁস হওয়া চার্টার অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিষদের উদ্বোধনী সভাপতি এবং তার এই পদ কার্যত আজীবন। সনদে বলা হয়েছে:
যদিও গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর ভিত্তি করে এই পরিষদের জন্ম, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সনদের কোথাও সরাসরি 'গাজা' বা ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ নেই। এটি মূলত একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে যা বিশ্বের যেকোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ইতিমধ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে।
এই পিস কাউন্সিলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনি ব্যক্তিত্ব থাকবে। এটি যেকোনো দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সম্পত্তি কেনা এবং চুক্তি করার ক্ষমতা রাখবে। এমনকি এই পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশেষ কূটনৈতিক দায়মুক্তি (Immunity) ভোগ করবেন।
অনেক দেশ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব ব্যবস্থায় 'একনায়কতন্ত্রের অনুপ্রবেশ' হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্প শিবিরের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক সংস্থাগুলোর বাইরে এসে এমন কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জাতিসংঘকে কার্যত অকার্যকর ঘোষণা করে নতুন এক আন্তর্জাতিক সংস্থা 'পিস কাউন্সিল' বা ‘শান্তি পরিষদ’ গঠন করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে এই পরিষদের চার্টার স্বাক্ষরিত হয়েছে। গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে গঠিত এই সংস্থায় ট্রাম্প নিজের জন্য আজীবন ভেটো ক্ষমতা ও একচ্ছত্র আধিপত্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতি এক নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো। গত ১৫ জানুয়ারি গাজা উপত্যকার জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত '২০ দফার' দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই 'শান্তি পরিষদ' (Peace Council) গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দাভোসে বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক চার্টার বা সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
জাতিসংঘের বিকল্প গড়ার চেষ্টা? বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই ট্রাম্প এই পরিষদ গঠন করেছেন। পরিষদের সনদে পরোক্ষভাবে জাতিসংঘের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, "শান্তি স্থাপনে বারবার ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্যাগ করার সাহস থাকতে হবে।" এটি একটি "অধিকতর নমনীয় এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সংস্থা" হিসেবে নিজেকে দাবি করছে।
ট্রাম্পের হাতে ‘আজীবন’ ক্ষমতা
ফাঁস হওয়া চার্টার অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিষদের উদ্বোধনী সভাপতি এবং তার এই পদ কার্যত আজীবন। সনদে বলা হয়েছে:
যদিও গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর ভিত্তি করে এই পরিষদের জন্ম, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সনদের কোথাও সরাসরি 'গাজা' বা ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ নেই। এটি মূলত একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে যা বিশ্বের যেকোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ইতিমধ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে।
এই পিস কাউন্সিলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনি ব্যক্তিত্ব থাকবে। এটি যেকোনো দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সম্পত্তি কেনা এবং চুক্তি করার ক্ষমতা রাখবে। এমনকি এই পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশেষ কূটনৈতিক দায়মুক্তি (Immunity) ভোগ করবেন।
অনেক দেশ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব ব্যবস্থায় 'একনায়কতন্ত্রের অনুপ্রবেশ' হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্প শিবিরের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক সংস্থাগুলোর বাইরে এসে এমন কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন