বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজা পুনর্গঠনের আড়ালে নিজের জন্য আজীবন ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে দাভোসে নতুন চার্টার স্বাক্ষর

ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিষদ’: জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ব শাসনের নতুন ছক?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিষদ’: জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ব শাসনের নতুন ছক?

বিশ্ব রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জাতিসংঘকে কার্যত অকার্যকর ঘোষণা করে নতুন এক আন্তর্জাতিক সংস্থা 'পিস কাউন্সিল' বা ‘শান্তি পরিষদ’ গঠন করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে এই পরিষদের চার্টার স্বাক্ষরিত হয়েছে। গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে গঠিত এই সংস্থায় ট্রাম্প নিজের জন্য আজীবন ভেটো ক্ষমতা ও একচ্ছত্র আধিপত্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতি এক নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো। গত ১৫ জানুয়ারি গাজা উপত্যকার জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত '২০ দফার' দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই 'শান্তি পরিষদ' (Peace Council) গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দাভোসে বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক চার্টার বা সনদ স্বাক্ষরিত হয়।

জাতিসংঘের বিকল্প গড়ার চেষ্টা? বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই ট্রাম্প এই পরিষদ গঠন করেছেন। পরিষদের সনদে পরোক্ষভাবে জাতিসংঘের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, "শান্তি স্থাপনে বারবার ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্যাগ করার সাহস থাকতে হবে।" এটি একটি "অধিকতর নমনীয় এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সংস্থা" হিসেবে নিজেকে দাবি করছে।

ট্রাম্পের হাতে ‘আজীবন’ ক্ষমতা

ফাঁস হওয়া চার্টার অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিষদের উদ্বোধনী সভাপতি এবং তার এই পদ কার্যত আজীবন। সনদে বলা হয়েছে:

  • পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের একক ভেটো দেওয়ার অধিকার থাকবে।
  • কে সদস্য হতে পারবে তা একমাত্র ট্রাম্প নির্ধারণ করবেন।
  • ট্রাম্প নিজেই তার পরবর্তী উত্তরসূরি মনোনীত করবেন।
  • যে দেশ প্রথম বছরে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে, তারাই কেবল 'স্থায়ী সদস্য' হিসেবে গণ্য হবে।

যদিও গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর ভিত্তি করে এই পরিষদের জন্ম, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সনদের কোথাও সরাসরি 'গাজা' বা ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ নেই। এটি মূলত একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে যা বিশ্বের যেকোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ইতিমধ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে।

এই পিস কাউন্সিলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনি ব্যক্তিত্ব থাকবে। এটি যেকোনো দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সম্পত্তি কেনা এবং চুক্তি করার ক্ষমতা রাখবে। এমনকি এই পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশেষ কূটনৈতিক দায়মুক্তি (Immunity) ভোগ করবেন।

অনেক দেশ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব ব্যবস্থায় 'একনায়কতন্ত্রের অনুপ্রবেশ' হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্প শিবিরের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক সংস্থাগুলোর বাইরে এসে এমন কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শান্তি পরিষদ সুইজারল্যান্ড

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিষদ’: জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ব শাসনের নতুন ছক?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিশ্ব রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জাতিসংঘকে কার্যত অকার্যকর ঘোষণা করে নতুন এক আন্তর্জাতিক সংস্থা 'পিস কাউন্সিল' বা ‘শান্তি পরিষদ’ গঠন করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে এই পরিষদের চার্টার স্বাক্ষরিত হয়েছে। গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে গঠিত এই সংস্থায় ট্রাম্প নিজের জন্য আজীবন ভেটো ক্ষমতা ও একচ্ছত্র আধিপত্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতি এক নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হলো। গত ১৫ জানুয়ারি গাজা উপত্যকার জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত '২০ দফার' দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই 'শান্তি পরিষদ' (Peace Council) গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দাভোসে বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক চার্টার বা সনদ স্বাক্ষরিত হয়।

জাতিসংঘের বিকল্প গড়ার চেষ্টা? বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই ট্রাম্প এই পরিষদ গঠন করেছেন। পরিষদের সনদে পরোক্ষভাবে জাতিসংঘের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, "শান্তি স্থাপনে বারবার ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্যাগ করার সাহস থাকতে হবে।" এটি একটি "অধিকতর নমনীয় এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সংস্থা" হিসেবে নিজেকে দাবি করছে।

ট্রাম্পের হাতে ‘আজীবন’ ক্ষমতা

ফাঁস হওয়া চার্টার অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিষদের উদ্বোধনী সভাপতি এবং তার এই পদ কার্যত আজীবন। সনদে বলা হয়েছে:

  • পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের একক ভেটো দেওয়ার অধিকার থাকবে।
  • কে সদস্য হতে পারবে তা একমাত্র ট্রাম্প নির্ধারণ করবেন।
  • ট্রাম্প নিজেই তার পরবর্তী উত্তরসূরি মনোনীত করবেন।
  • যে দেশ প্রথম বছরে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে, তারাই কেবল 'স্থায়ী সদস্য' হিসেবে গণ্য হবে।

যদিও গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর ভিত্তি করে এই পরিষদের জন্ম, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সনদের কোথাও সরাসরি 'গাজা' বা ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ নেই। এটি মূলত একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে যা বিশ্বের যেকোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ইতিমধ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে।

এই পিস কাউন্সিলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনি ব্যক্তিত্ব থাকবে। এটি যেকোনো দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সম্পত্তি কেনা এবং চুক্তি করার ক্ষমতা রাখবে। এমনকি এই পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশেষ কূটনৈতিক দায়মুক্তি (Immunity) ভোগ করবেন।

অনেক দেশ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব ব্যবস্থায় 'একনায়কতন্ত্রের অনুপ্রবেশ' হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্প শিবিরের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক সংস্থাগুলোর বাইরে এসে এমন কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত