ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় রোধে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়াকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সীমান্ত সচল হলে গাজায় ত্রাণ সহায়তা এবং মানুষের যাতায়াত সহজতর হবে, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অঞ্চলটিতে নতুন আশার আলো ছড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (OCHA)-এর মুখপাত্র জেনস লার্কে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালু হওয়া গাজার মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পণ্য ও মানুষের যাতায়াত সহজ করতে খুব দ্রুতই সীমান্তটি খুলে দেওয়া হবে। লার্কে জোর দিয়ে বলেন, "সীমান্তটি পুনরায় খুলে দেওয়া মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করবে।"
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটির প্রধান আলী শাথ একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন যে, আগামী সপ্তাহেই মিসরের সাথে সংযুক্ত রাফাহ সীমান্ত উভয়মুখী যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি সীমান্তটিকে গাজার 'লাইফলাইন' বা জীবনরেখা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি খোলার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে গাজা আর বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
একই দিনে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরায়েল খুব শীঘ্রই রাফাহ সীমান্ত খুলে দিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "ইসরায়েল অচিরেই সীমান্তটি খুলে দেবে, এটি সময়ের দাবি।"
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখল করে নেয়। এরপর থেকে টানা দুই বছর গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট ও যুদ্ধাবস্থা বজায় থাকে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘ যুদ্ধে ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।
গত ১৬ জানুয়ারি আলী শাথ জানান, তার কমিটি কায়রো থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং খুব দ্রুতই তারা গাজায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করতে সেখানে সশরীরে উপস্থিত হবেন। রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হলে এই পুনর্গঠন ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে বিশ্ববাসী আশা করছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় রোধে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়াকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সীমান্ত সচল হলে গাজায় ত্রাণ সহায়তা এবং মানুষের যাতায়াত সহজতর হবে, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অঞ্চলটিতে নতুন আশার আলো ছড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (OCHA)-এর মুখপাত্র জেনস লার্কে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালু হওয়া গাজার মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পণ্য ও মানুষের যাতায়াত সহজ করতে খুব দ্রুতই সীমান্তটি খুলে দেওয়া হবে। লার্কে জোর দিয়ে বলেন, "সীমান্তটি পুনরায় খুলে দেওয়া মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করবে।"
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটির প্রধান আলী শাথ একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন যে, আগামী সপ্তাহেই মিসরের সাথে সংযুক্ত রাফাহ সীমান্ত উভয়মুখী যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি সীমান্তটিকে গাজার 'লাইফলাইন' বা জীবনরেখা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি খোলার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে গাজা আর বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
একই দিনে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরায়েল খুব শীঘ্রই রাফাহ সীমান্ত খুলে দিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "ইসরায়েল অচিরেই সীমান্তটি খুলে দেবে, এটি সময়ের দাবি।"
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখল করে নেয়। এরপর থেকে টানা দুই বছর গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট ও যুদ্ধাবস্থা বজায় থাকে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘ যুদ্ধে ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।
গত ১৬ জানুয়ারি আলী শাথ জানান, তার কমিটি কায়রো থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং খুব দ্রুতই তারা গাজায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করতে সেখানে সশরীরে উপস্থিত হবেন। রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হলে এই পুনর্গঠন ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে বিশ্ববাসী আশা করছে।

আপনার মতামত লিখুন