বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

রাজস্থানের মরুভূমিতে ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ মহড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বাস্তব যুদ্ধ প্রস্তুতি যাচাই

ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া; নিখুঁত লাইভ ফায়ারিং প্রদর্শন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া; নিখুঁত লাইভ ফায়ারিং প্রদর্শন

ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে বৃহৎ আকারের আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া পরিচালনা করেছে। ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ নামের এই বার্ষিক সমন্বিত লাইভ ফায়ারিং মহড়ায় খার্গা কর্পসের এয়ার ডিফেন্স ইউনিট তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিম কমান্ডের অধীনস্থ খার্গা কর্পসের আর্মি এয়ার ডিফেন্স ইউনিট, যাদের ‘এয়ারাওয়াত বায়ু রক্ষক’ নামে পরিচিত, রাজস্থানের বিকানেরের কাছে অবস্থিত মহাজান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বৃহৎ আকারের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া পরিচালনা করেছে। এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র ও সেনা ইউনিটগুলোর প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা।

মহড়ায় লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করে আকাশ থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার অনুশীলন করা হয়। সেনা সদস্যরা সমন্বিত কৌশলগত পদক্ষেপ পরিচালনা করে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রব্যবস্থা পরিচালনার দক্ষতা প্রদর্শন করেন। যদিও ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রব্যবস্থার নাম প্রকাশ করা হয়নি, সাধারণত ভারতীয় সেনাবাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান এবং উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলে।

মহাজান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জ ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে আর্টিলারি, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মরুভূমির কঠিন পরিবেশে পরিচালিত এই ধরনের মহড়া সেনাদের সহনশীলতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের প্রস্তুতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বব্যাপী ড্রোন প্রযুক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রসারের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব নতুন করে বেড়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতগুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নেটওয়ার্কভিত্তিক বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ মহড়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল উন্নত করার জন্য বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

পশ্চিম কমান্ড ভারতের পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান করে, যেখানে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। নিয়মিত লাইভ ফায়ারিং মহড়া সেনা সদস্যদের যুদ্ধ প্রস্তুত রাখতে সহায়তা করে এবং পদাতিক, বিমান ও প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের মহড়া অস্ত্রের কার্যকারিতা, সেনাদের দক্ষতা এবং কৌশলগত নীতিমালা বাস্তব পরিস্থিতিতে যাচাই করার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে এটি সেনাদের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন ঘটায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী বর্তমানে নিজস্ব এবং আমদানি করা প্রযুক্তির সমন্বয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়ন করছে। ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ মহড়ার সফল বাস্তবায়ন খার্গা কর্পসের পশ্চিম সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া; নিখুঁত লাইভ ফায়ারিং প্রদর্শন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে বৃহৎ আকারের আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া পরিচালনা করেছে। ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ নামের এই বার্ষিক সমন্বিত লাইভ ফায়ারিং মহড়ায় খার্গা কর্পসের এয়ার ডিফেন্স ইউনিট তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিম কমান্ডের অধীনস্থ খার্গা কর্পসের আর্মি এয়ার ডিফেন্স ইউনিট, যাদের ‘এয়ারাওয়াত বায়ু রক্ষক’ নামে পরিচিত, রাজস্থানের বিকানেরের কাছে অবস্থিত মহাজান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বৃহৎ আকারের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া পরিচালনা করেছে। এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র ও সেনা ইউনিটগুলোর প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা।

মহড়ায় লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করে আকাশ থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার অনুশীলন করা হয়। সেনা সদস্যরা সমন্বিত কৌশলগত পদক্ষেপ পরিচালনা করে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রব্যবস্থা পরিচালনার দক্ষতা প্রদর্শন করেন। যদিও ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রব্যবস্থার নাম প্রকাশ করা হয়নি, সাধারণত ভারতীয় সেনাবাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান এবং উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলে।

মহাজান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জ ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে আর্টিলারি, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মরুভূমির কঠিন পরিবেশে পরিচালিত এই ধরনের মহড়া সেনাদের সহনশীলতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের প্রস্তুতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বব্যাপী ড্রোন প্রযুক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রসারের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব নতুন করে বেড়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতগুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নেটওয়ার্কভিত্তিক বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ মহড়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল উন্নত করার জন্য বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

পশ্চিম কমান্ড ভারতের পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান করে, যেখানে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। নিয়মিত লাইভ ফায়ারিং মহড়া সেনা সদস্যদের যুদ্ধ প্রস্তুত রাখতে সহায়তা করে এবং পদাতিক, বিমান ও প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের মহড়া অস্ত্রের কার্যকারিতা, সেনাদের দক্ষতা এবং কৌশলগত নীতিমালা বাস্তব পরিস্থিতিতে যাচাই করার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে এটি সেনাদের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন ঘটায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী বর্তমানে নিজস্ব এবং আমদানি করা প্রযুক্তির সমন্বয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়ন করছে। ‘এয়ারাওয়াত বায়ু কবচ’ মহড়ার সফল বাস্তবায়ন খার্গা কর্পসের পশ্চিম সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত