ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে যখন উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই এক শক্তিশালী সম্প্রীতির বার্তা দিলেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের স্বাধীনতা কোনো একক গোষ্ঠীর অর্জনে আসেনি; বরং হিন্দু ও মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে এই দেশ স্বাধীন করেছে। বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ রুখতে এই ঐতিহাসিক ঐক্য পুনরায় ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার ঐতিহাসিক দিনটিতে এক বিশেষ বার্তায় মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, ভারত কোনো বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি গড়ে উঠেছে একটি সম্মিলিত সংগ্রাম ও দায়িত্বশীলতার ওপর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িকভাবে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একটি রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা বা উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
মাদানি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "যেভাবে হিন্দু ও মুসলিম একত্রে স্বাধীনতার জন্য লড়েছে, ঠিক একইভাবে আজ আমাদের ঘৃণার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়তে হবে। কারণ দেশ চলে ভালোবাসা ও মমতায়, ঘৃণায় নয়।" তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং ভালোবাসা টিকে থাকবে, ততক্ষণই ভারতের অগ্রগতি সম্ভব। যদি ঘৃণা পরাজিত না হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।
ভারতের সংবিধানের মূল ভিত্তি—বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতা, সাম্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে যখন ভারত একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন থেকেই সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কামান দিয়ে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। তবে মাওলানা মাদানির মতে, এই শক্তির প্রকৃত উৎস নিহিত রয়েছে জনগণের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাঝে।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে যখন উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই এক শক্তিশালী সম্প্রীতির বার্তা দিলেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের স্বাধীনতা কোনো একক গোষ্ঠীর অর্জনে আসেনি; বরং হিন্দু ও মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে এই দেশ স্বাধীন করেছে। বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ রুখতে এই ঐতিহাসিক ঐক্য পুনরায় ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার ঐতিহাসিক দিনটিতে এক বিশেষ বার্তায় মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, ভারত কোনো বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি গড়ে উঠেছে একটি সম্মিলিত সংগ্রাম ও দায়িত্বশীলতার ওপর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িকভাবে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একটি রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা বা উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
মাদানি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "যেভাবে হিন্দু ও মুসলিম একত্রে স্বাধীনতার জন্য লড়েছে, ঠিক একইভাবে আজ আমাদের ঘৃণার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়তে হবে। কারণ দেশ চলে ভালোবাসা ও মমতায়, ঘৃণায় নয়।" তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং ভালোবাসা টিকে থাকবে, ততক্ষণই ভারতের অগ্রগতি সম্ভব। যদি ঘৃণা পরাজিত না হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।
ভারতের সংবিধানের মূল ভিত্তি—বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতা, সাম্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে যখন ভারত একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন থেকেই সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কামান দিয়ে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। তবে মাওলানা মাদানির মতে, এই শক্তির প্রকৃত উৎস নিহিত রয়েছে জনগণের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাঝে।

আপনার মতামত লিখুন