বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

শান্তি পরিষদে নাম থাকলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য এক পয়সাও দেবে না তেল আবিব

গাজা পুনর্গঠন তহবিলে অর্থ দেবে না ইসরায়েল: ওয়াশিংটনকে সাফ জবাব


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজা পুনর্গঠন তহবিলে অর্থ দেবে না ইসরায়েল: ওয়াশিংটনকে সাফ জবাব

গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গঠিত ‘পিস কাউন্সিল’-এ কোনো ধরনের আর্থিক অবদান রাখবে না বলে মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য জিভ এলকিন আজ রোববার এই ঘোষণা দেন। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর গাজার অবকাঠামো যখন ৯০ শতাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত, তখন ইসরায়েলের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম 'রেশেত বেত' রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জিভ এলকিন বলেন, "আমরা পিস কাউন্সিলকে কোনো অর্থ দেব না। গাজা পুনর্গঠনে অর্থায়ন করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আমাদের নেই। ইসরায়েল ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের কথা ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।"

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কঠোর অবস্থান মূলত দেশটির কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের সন্তুষ্ট করার একটি কৌশল। সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্র ডানপন্থী নেতা জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ শুরু থেকেই এই কাউন্সিলে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছিলেন। সরকারি সূত্র মতে, ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থ ব্যয় না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই এই দুই নেতা আপাতত শান্ত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৫ জানুয়ারি এই 'পিস কাউন্সিল' গঠনের ঘোষণা দেন। গাজার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের জন্য নির্ধারিত চারটি কাঠামোর মধ্যে এটি অন্যতম। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর প্রত্যেকে পুনর্গঠন ও শান্তিরক্ষা বাহিনীর ব্যয় মেটাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে অবদান রাখার কথা। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের প্রথম সভায় ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতারসহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজে ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে উপত্যকাটির প্রায় ২৪ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের এই নেতিবাচক অবস্থানের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিষয় : ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজা পুনর্গঠন তহবিলে অর্থ দেবে না ইসরায়েল: ওয়াশিংটনকে সাফ জবাব

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গঠিত ‘পিস কাউন্সিল’-এ কোনো ধরনের আর্থিক অবদান রাখবে না বলে মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য জিভ এলকিন আজ রোববার এই ঘোষণা দেন। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর গাজার অবকাঠামো যখন ৯০ শতাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত, তখন ইসরায়েলের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম 'রেশেত বেত' রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জিভ এলকিন বলেন, "আমরা পিস কাউন্সিলকে কোনো অর্থ দেব না। গাজা পুনর্গঠনে অর্থায়ন করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আমাদের নেই। ইসরায়েল ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের কথা ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।"

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কঠোর অবস্থান মূলত দেশটির কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের সন্তুষ্ট করার একটি কৌশল। সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্র ডানপন্থী নেতা জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ শুরু থেকেই এই কাউন্সিলে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছিলেন। সরকারি সূত্র মতে, ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থ ব্যয় না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই এই দুই নেতা আপাতত শান্ত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৫ জানুয়ারি এই 'পিস কাউন্সিল' গঠনের ঘোষণা দেন। গাজার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের জন্য নির্ধারিত চারটি কাঠামোর মধ্যে এটি অন্যতম। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর প্রত্যেকে পুনর্গঠন ও শান্তিরক্ষা বাহিনীর ব্যয় মেটাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে অবদান রাখার কথা। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের প্রথম সভায় ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতারসহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজে ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে উপত্যকাটির প্রায় ২৪ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের এই নেতিবাচক অবস্থানের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত