বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

শত বছরের ঐতিহ্য বজায় রাখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা; ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরায় চলবে কড়া নজরদারি

শাহজাহানপুরে ‘জুতা মার হোলি’: ৪৪টি মসজিদ ঢেকে কড়া নিরাপত্তায় শোভাযাত্রা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

শাহজাহানপুরে ‘জুতা মার হোলি’: ৪৪টি মসজিদ ঢেকে কড়া নিরাপত্তায় শোভাযাত্রা

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে শত বছরের পুরনো এবং বিতর্কিত ঐতিহ্য ‘জুতা মার হোলি’ উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শোভাযাত্রার রুটে থাকা ৪৪টি মসজিদ ও মাজার ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে শহরজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘লাট সাহেব’ বা ‘জুতা মার হোলি’ শোভাযাত্রা ভারতের অন্যতম ভিন্নধর্মী এক উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোভাযাত্রার পথে অবস্থিত ৪৪টি মসজিদ ও মাজারগুলোকে মোটা প্লাস্টিক ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে যাতে রঙের ব্যবহার বা অন্য কোনো কারণে ধর্মীয় অনুভবে আঘাত না লাগে।

ঐতিহাসিকদের মতে, এই প্রথাটি ১৮শ শতাব্দী থেকে চলে আসছে। এতে ‘লাট সাহেব’ (যাকে ব্রিটিশ আমলের বড় কর্তার প্রতীক ধরা হয়) সাজিয়ে এক ব্যক্তিকে মহিষের গাড়িতে করে ঘোরানো হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ওই ব্যক্তির দিকে জুতো ও স্যান্ডেল নিক্ষেপ করেন। প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোভাযাত্রাটি ফুলমতি দেবী মন্দির থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদি জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দেড় গুণ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন:

২০১ জন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

১৩ জন সার্কেল অফিসার এবং ৩১০ জন সাব-ইন্সপেক্টর।

১২০০ কনস্টেবল এবং ৫০০ হোম গার্ড।

পিএসি (PAC) ও র‍্যাফ (RAF)-এর ৪টি করে কোম্পানি এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর একটি দল।

পুরো রুটটিকে ৭টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ১০০টিরও বেশি সোলার পাওয়ার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও নজরদারি ব্যাহত না হয়। এছাড়া শোভাযাত্রার পথে থাকা ১৪৮টি সংযোগকারী গলি ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শান্তি বজায় রাখার আহ্বান গত এক মাস ধরে স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্যদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রশাসন। কোনো ধরনের উস্কানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিহাসবিদ ড. বিকাশ খুরানা জানান, ১৭২৮ সালে নবাব আবদুল্লাহ খানের সময় থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে এক সময় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৮৮ সালে এর নাম ‘লাট সাহেব’ করা হয়। ১৯৯০ সালে উচ্চ আদালত এই উৎসবকে দীর্ঘদিনের প্রথা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেয়।

প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি মূলত একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ উৎসব উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


শাহজাহানপুরে ‘জুতা মার হোলি’: ৪৪টি মসজিদ ঢেকে কড়া নিরাপত্তায় শোভাযাত্রা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে শত বছরের পুরনো এবং বিতর্কিত ঐতিহ্য ‘জুতা মার হোলি’ উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শোভাযাত্রার রুটে থাকা ৪৪টি মসজিদ ও মাজার ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে শহরজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘লাট সাহেব’ বা ‘জুতা মার হোলি’ শোভাযাত্রা ভারতের অন্যতম ভিন্নধর্মী এক উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোভাযাত্রার পথে অবস্থিত ৪৪টি মসজিদ ও মাজারগুলোকে মোটা প্লাস্টিক ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে যাতে রঙের ব্যবহার বা অন্য কোনো কারণে ধর্মীয় অনুভবে আঘাত না লাগে।

ঐতিহাসিকদের মতে, এই প্রথাটি ১৮শ শতাব্দী থেকে চলে আসছে। এতে ‘লাট সাহেব’ (যাকে ব্রিটিশ আমলের বড় কর্তার প্রতীক ধরা হয়) সাজিয়ে এক ব্যক্তিকে মহিষের গাড়িতে করে ঘোরানো হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ওই ব্যক্তির দিকে জুতো ও স্যান্ডেল নিক্ষেপ করেন। প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোভাযাত্রাটি ফুলমতি দেবী মন্দির থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদি জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দেড় গুণ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন:

২০১ জন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

১৩ জন সার্কেল অফিসার এবং ৩১০ জন সাব-ইন্সপেক্টর।

১২০০ কনস্টেবল এবং ৫০০ হোম গার্ড।

পিএসি (PAC) ও র‍্যাফ (RAF)-এর ৪টি করে কোম্পানি এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর একটি দল।

পুরো রুটটিকে ৭টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ১০০টিরও বেশি সোলার পাওয়ার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও নজরদারি ব্যাহত না হয়। এছাড়া শোভাযাত্রার পথে থাকা ১৪৮টি সংযোগকারী গলি ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শান্তি বজায় রাখার আহ্বান গত এক মাস ধরে স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্যদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রশাসন। কোনো ধরনের উস্কানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিহাসবিদ ড. বিকাশ খুরানা জানান, ১৭২৮ সালে নবাব আবদুল্লাহ খানের সময় থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে এক সময় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৮৮ সালে এর নাম ‘লাট সাহেব’ করা হয়। ১৯৯০ সালে উচ্চ আদালত এই উৎসবকে দীর্ঘদিনের প্রথা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেয়।

প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি মূলত একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ উৎসব উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত