সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় টানা ১৪ দিন অবরুদ্ধ পবিত্র হারামুশ শরিফ; ওল্ড সিটির অলিগলিতে জুমার নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা

রমজানের শেষ জুমাতেও আল-আকসায় নামাজে বাধা দিল ইসরায়েল



রমজানের শেষ জুমাতেও আল-আকসায় নামাজে বাধা দিল ইসরায়েল

পবিত্র মাহে রমজানের বিদায়ী জুমায়ও অবরুদ্ধ রইল মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা মাসজিদুল আকসা। ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক সামরিক উত্তজনাকে কেন্দ্র করে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আল-আকসায় সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফলে আজ রমজানের শেষ জুমায়ও লাখো প্রাণের স্পন্দন আল-আকসা প্রাঙ্গণ ছিল জনশূন্য।

ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের দাবি, বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থায় বড় ধরনের জমায়েত জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ‘জরুরি অবস্থা’র দোহাই দিয়ে তারা পবিত্র মাসজিদুল আকসাসহ পুরনো কুদস (ওল্ড সিটি) এলাকার সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনায় প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, বরং খ্রিস্টানদের পবিত্র ‘চার্চ অব দ্য হলি সেপালকার’-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের ভাষ্যমতে, এটি কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নয় বরং একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা কৌশল’।

বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আজ রমজানের চতুর্থ ও শেষ জুমায় যেখানে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে, সেখানে আজ আল-আকসা ছিল নিস্তব্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কুদস ইসলামি ওয়াকফ-এর মুষ্টিমেয় কর্মচারী এবং নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়া আর কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

জুমার সময় কুদসের রাজপথ ও ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী কঠোর ব্যারিকেড তৈরি করে রাখে। আল-আকসায় ঢুকতে না পেরে হাজার হাজার মুসল্লি ইসরায়েলি বন্দুকের নলের মুখে রাস্তার ওপর, চেকপোস্টের পাশে এবং অলিগলিতে নামাজ আদায় করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বয়স্ক ও নারীদেরও পবিত্র প্রাঙ্গণে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত দুই সপ্তাহ ধরে কেবল কর্মচারীরাই সেখানে আজান ও নামাজের জামাত সীমিতভাবে চালু রেখেছেন।

ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং মুসলিম বিশ্ব মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অজুহাতে সিভিলিয়ানদের ইবাদত করতে না দেওয়া এবং পবিত্র স্থাপনা বন্ধ করে রাখা ‘যৌথ দণ্ড’ বা Collective Punishment-এর শামিল। পবিত্র রমজান মাসে যখন সহনশীলতা ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ কাম্য, তখন শক্তির জোরে আল-আকসাকে মুসল্লিহীন রাখা উম্মাহর হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থায় পবিত্র স্থাপনার পবিত্রতা রক্ষা এবং সকল নাগরিকের অবাধ ইবাদতের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এই অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই এখন বিশ্ববিবেকের কাছে বড় প্রশ্ন।

বিষয় : ফিলিস্তিন আল-আকসা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


রমজানের শেষ জুমাতেও আল-আকসায় নামাজে বাধা দিল ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র মাহে রমজানের বিদায়ী জুমায়ও অবরুদ্ধ রইল মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা মাসজিদুল আকসা। ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক সামরিক উত্তজনাকে কেন্দ্র করে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আল-আকসায় সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফলে আজ রমজানের শেষ জুমায়ও লাখো প্রাণের স্পন্দন আল-আকসা প্রাঙ্গণ ছিল জনশূন্য।

ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের দাবি, বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থায় বড় ধরনের জমায়েত জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ‘জরুরি অবস্থা’র দোহাই দিয়ে তারা পবিত্র মাসজিদুল আকসাসহ পুরনো কুদস (ওল্ড সিটি) এলাকার সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনায় প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, বরং খ্রিস্টানদের পবিত্র ‘চার্চ অব দ্য হলি সেপালকার’-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের ভাষ্যমতে, এটি কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নয় বরং একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা কৌশল’।

বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আজ রমজানের চতুর্থ ও শেষ জুমায় যেখানে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে, সেখানে আজ আল-আকসা ছিল নিস্তব্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কুদস ইসলামি ওয়াকফ-এর মুষ্টিমেয় কর্মচারী এবং নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়া আর কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

জুমার সময় কুদসের রাজপথ ও ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী কঠোর ব্যারিকেড তৈরি করে রাখে। আল-আকসায় ঢুকতে না পেরে হাজার হাজার মুসল্লি ইসরায়েলি বন্দুকের নলের মুখে রাস্তার ওপর, চেকপোস্টের পাশে এবং অলিগলিতে নামাজ আদায় করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বয়স্ক ও নারীদেরও পবিত্র প্রাঙ্গণে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত দুই সপ্তাহ ধরে কেবল কর্মচারীরাই সেখানে আজান ও নামাজের জামাত সীমিতভাবে চালু রেখেছেন।

ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং মুসলিম বিশ্ব মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অজুহাতে সিভিলিয়ানদের ইবাদত করতে না দেওয়া এবং পবিত্র স্থাপনা বন্ধ করে রাখা ‘যৌথ দণ্ড’ বা Collective Punishment-এর শামিল। পবিত্র রমজান মাসে যখন সহনশীলতা ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ কাম্য, তখন শক্তির জোরে আল-আকসাকে মুসল্লিহীন রাখা উম্মাহর হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থায় পবিত্র স্থাপনার পবিত্রতা রক্ষা এবং সকল নাগরিকের অবাধ ইবাদতের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এই অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই এখন বিশ্ববিবেকের কাছে বড় প্রশ্ন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত