মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আল-আকসায় ফের ইতামার বেন-গভীরের উসকানিমূলক অনুপ্রবেশ

অধিকৃত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর ফের পুলিশি সুরক্ষায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট, ২০২৬) কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আরও কয়েকজন বসতি স্থাপনকারীকে সাথে নিয়ে তিনি কমপ্লেক্সে ঢোকেন এবং প্রাঙ্গণের পূর্ব অংশে নামাজ আদায় করেন। আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে চালানো এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।অধিকৃত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে আবারো অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনা ঘটিয়েছেন ইসরায়েলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। ভারী পুলিশি প্রহরায় কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীকে সাথে নিয়ে তিনি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের এক কর্মকর্তা (নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে নিশ্চিত করেছেন যে, বেন-গভীর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং চরম উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে আল-আকসায় প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী মসজিদের পূর্ব অংশে দাঁড়িয়ে ইহুদি রীতিতে প্রার্থনা বা উপাসনা করছেন।কট্টর ডানপন্থী দল 'জুইশ পাওয়ার'-এর প্রধান বেন-গভীর এর আগেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক কড়া সমালোচনা ও ক্ষোভের পরোয়া না করে আল-আকসায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সাধারণত কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অত্যন্ত চতুর উপায়ে তিনি এসব ঝটিকা হামলা চালিয়ে থাকেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ২৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টরপন্থী ইহুদি ভোটারদের সমর্থন টানতেই তিনি পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।ঐতিহাসিক বিধান অনুযায়ী আল-আকসা মসজিদ পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের একমাত্র আইনগত অধিকার রয়েছে জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের হাতে। তবে ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ ওয়াকফের মতামতকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিদিন বহরে বহরে আল-আকসায় প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে অধিকৃত জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদকে ইহুদীকরণ করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো-পবিত্র এই শহরের হাজার বছরের আরব ও ইসলামী পরিচয় মুছে ফেলা এবং একে ইহুদি রাষ্ট্র ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার পদদলিত করে সশস্ত্র জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করে। ওই সময় নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে নিজ বাসভূমে থেকে উচ্ছেদ করা হয়, যা ফিলিস্তিনি ইতিহাসের ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় নামে পরিচিত। এর পর থেকে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনিদের অবশিষ্টাংশ ভূখণ্ডও দখল করে নিয়েছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য গৃহীত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রস্তাবসমূহ প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে।

আল-আকসায় ফের ইতামার বেন-গভীরের উসকানিমূলক অনুপ্রবেশ