জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের জন্য দীর্ঘকাল বন্ধ রেখে ইহুদিদের 'পাসওভার' উৎসব উপলক্ষে বুরাক দেয়ালে (যাকে ইসরাইল পশ্চিম দেয়াল বলে দাবি করে) বিশেষ প্রার্থনার অনুমতি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসা রুদ্ধ থাকলেও ইহুদিদের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার আল-আকসায় ঈদুল ফিতরের নামাজও পড়তে দেওয়া হয়নি ফিলিস্তিনিদের।
ইসরাইলি পুলিশের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা এবং জনসমাগমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বছর পাসওভার উৎসব একটি ব্যতিক্রমী এবং ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে।" তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত মূলত "জীবন রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়বদ্ধতা" থেকে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ জনগণের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত ৫০ জন 'কোহেন' বা পুরোহিতকে বুরাক দেয়ালে ঐতিহ্যবাহী 'পুরোহিত আশীর্বাদ' (Priestly Blessing) অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের কট্টরপন্থী ডানপন্থীরা দাবি করে আসছে যে, পাসওভার উৎসব উপলক্ষে আল-আকসা চত্বরও ইহুদিদের প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। ইসরাইলি প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই আল-আকসা ও গির্জাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অজুহাতে ইসরাইল অধিকৃত কুদস বা জেরুজালেমে নজিরবিহীন ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে:
ভুক্তিভোগী ফিলিস্তিনিরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া হলেও এটি মূলত একটি রাজনৈতিক চাল। যেখানে আল-আকসা কেবল ওয়াকফ কর্মীদের পাহারায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রার্থনার আয়োজনকে "স্পষ্ট ধর্মীয় বৈষম্য" হিসেবে দেখছেন তারা। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইকরিমা সাবরি ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, বুরাক দেয়াল আল-আকসার বাইরের দেয়ালের অংশ এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি ওয়াকফ সম্পত্তি।
আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, দখলকৃত অঞ্চলের জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দখলদার শক্তির আইনি দায়িত্ব। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন এবং ইউনেস্কোর বিভিন্ন প্রস্তাবে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদা (Status Quo) বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, "নিরাপত্তা" শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক পক্ষকে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া এবং অন্য পক্ষকে তাদের পবিত্রতম মসজিদ থেকে বঞ্চিত রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আল-আকসা মসজিদের চাবিকাঠি ও ব্যবস্থাপনা ইসলামি ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকার কথা থাকলেও ইসরাইল সেখানে একতরফা কর্তৃত্ব খাটাচ্ছে। এই বৈষম্য কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করছে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একটি স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কুদসের পবিত্র স্থানগুলোতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের দাবি।
বিষয় : আল-আকসা পূর্ব জেরুজালেম

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের জন্য দীর্ঘকাল বন্ধ রেখে ইহুদিদের 'পাসওভার' উৎসব উপলক্ষে বুরাক দেয়ালে (যাকে ইসরাইল পশ্চিম দেয়াল বলে দাবি করে) বিশেষ প্রার্থনার অনুমতি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসা রুদ্ধ থাকলেও ইহুদিদের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার আল-আকসায় ঈদুল ফিতরের নামাজও পড়তে দেওয়া হয়নি ফিলিস্তিনিদের।
ইসরাইলি পুলিশের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা এবং জনসমাগমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বছর পাসওভার উৎসব একটি ব্যতিক্রমী এবং ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে।" তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত মূলত "জীবন রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়বদ্ধতা" থেকে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ জনগণের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত ৫০ জন 'কোহেন' বা পুরোহিতকে বুরাক দেয়ালে ঐতিহ্যবাহী 'পুরোহিত আশীর্বাদ' (Priestly Blessing) অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের কট্টরপন্থী ডানপন্থীরা দাবি করে আসছে যে, পাসওভার উৎসব উপলক্ষে আল-আকসা চত্বরও ইহুদিদের প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। ইসরাইলি প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই আল-আকসা ও গির্জাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অজুহাতে ইসরাইল অধিকৃত কুদস বা জেরুজালেমে নজিরবিহীন ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে:
ভুক্তিভোগী ফিলিস্তিনিরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া হলেও এটি মূলত একটি রাজনৈতিক চাল। যেখানে আল-আকসা কেবল ওয়াকফ কর্মীদের পাহারায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রার্থনার আয়োজনকে "স্পষ্ট ধর্মীয় বৈষম্য" হিসেবে দেখছেন তারা। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইকরিমা সাবরি ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, বুরাক দেয়াল আল-আকসার বাইরের দেয়ালের অংশ এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি ওয়াকফ সম্পত্তি।
আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, দখলকৃত অঞ্চলের জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দখলদার শক্তির আইনি দায়িত্ব। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন এবং ইউনেস্কোর বিভিন্ন প্রস্তাবে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদা (Status Quo) বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, "নিরাপত্তা" শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক পক্ষকে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া এবং অন্য পক্ষকে তাদের পবিত্রতম মসজিদ থেকে বঞ্চিত রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আল-আকসা মসজিদের চাবিকাঠি ও ব্যবস্থাপনা ইসলামি ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকার কথা থাকলেও ইসরাইল সেখানে একতরফা কর্তৃত্ব খাটাচ্ছে। এই বৈষম্য কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করছে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একটি স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কুদসের পবিত্র স্থানগুলোতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন