ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা জোট গঠনে একমত হয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর ও পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশ চারটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত শক্তিকে একত্রিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে এই 'আঞ্চলিক মালিকানা'র ধারণাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার এই আলোচনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বলেন, "অঞ্চলটির প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আমরা কীভাবে আমাদের শক্তিকে একত্রিত করে সমস্যা সমাধান করতে পারি, তা নিয়ে কাজ করছি।"
তুরস্ক গত বছর থেকেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, যেখানে এখন মিশরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্রমতে, এই জোটটি অনেকটা ন্যাটোর মতো সামরিক গ্যারান্টি না দিলেও, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা বিষয়ে নিবিড় সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। হাকান ফিদান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "হয় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের সমস্যার সমাধান শিখব, না হয় বাইরের কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি এসে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করবে।"
এই জোটের প্রতিটি দেশেরই রয়েছে অনন্য সামরিক সক্ষমতা। তুরস্ক তাদের উন্নত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির জন্য বিশ্বখ্যাত। পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম দেশ। সৌদি আরব আধুনিক প্রযুক্তির কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে এবং মিশরের রয়েছে বিশাল ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী। গত ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক ও মিশর ইতোমধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় মিশরে গোলাবারুদ উৎপাদনের লাইন স্থাপন করা হবে।
রিয়াদের এই বৈঠক থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং লেবাননে ইসরায়েলের 'বিস্তারবাদী' নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের এই ডামাডোলে নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় এই চার দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা জোট গঠনে একমত হয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর ও পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশ চারটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত শক্তিকে একত্রিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে এই 'আঞ্চলিক মালিকানা'র ধারণাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার এই আলোচনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বলেন, "অঞ্চলটির প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আমরা কীভাবে আমাদের শক্তিকে একত্রিত করে সমস্যা সমাধান করতে পারি, তা নিয়ে কাজ করছি।"
তুরস্ক গত বছর থেকেই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, যেখানে এখন মিশরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্রমতে, এই জোটটি অনেকটা ন্যাটোর মতো সামরিক গ্যারান্টি না দিলেও, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা বিষয়ে নিবিড় সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। হাকান ফিদান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "হয় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের সমস্যার সমাধান শিখব, না হয় বাইরের কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি এসে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করবে।"
এই জোটের প্রতিটি দেশেরই রয়েছে অনন্য সামরিক সক্ষমতা। তুরস্ক তাদের উন্নত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির জন্য বিশ্বখ্যাত। পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম দেশ। সৌদি আরব আধুনিক প্রযুক্তির কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে এবং মিশরের রয়েছে বিশাল ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী। গত ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক ও মিশর ইতোমধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় মিশরে গোলাবারুদ উৎপাদনের লাইন স্থাপন করা হবে।
রিয়াদের এই বৈঠক থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং লেবাননে ইসরায়েলের 'বিস্তারবাদী' নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের এই ডামাডোলে নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় এই চার দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন