শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

মুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত না করে ভারত 'বিশ্বগুরু' হতে পারবে না: আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

ভারতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব বা 'বিশ্বগুরু' হওয়ার স্বপ্ন মুসলিমদের প্রতি ইনসাফ ও সমানাধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া অপূর্ণ থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। বৃহস্পতিবার গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলের ভুজে এক জনসভায় তিনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এবং সাম্প্রতিক আইনি সংস্কারের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।২৩ এপ্রিল, গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভুজে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। আগামী ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য গুজরাট স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। ওয়াইসি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, গত ৭০ বছর ধরে মুসলিমরা কেবল ‘ভোটার’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু তাদের নিজস্ব কোনো শক্তিশালী নেতৃত্ব তৈরি হয়নি।তিনি বলেন, "যদি এই দেশ বিশ্বগুরু বা পরাশক্তি হতে চায়, তবে ভারতের মুসলিমদের অধিকার প্রদান করা ছাড়া তা সম্ভব নয়।" তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাবে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।ওয়াইসি বিশেষ করে সাম্প্রতিক ওয়াকফ আইন সংশোধন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সমালোচনা করে বলেন, "এসব আইন মুসলিমদের শরিয়াহ পালনে বাধা সৃষ্টি করবে এবং ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।" তিনি গুজরাটে চলমান বুলডোজার উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন, "মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ধ্বংস করে আপনারা কী অর্জন করবেন?" তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভারত কোনো বুলডোজার দিয়ে নয়, বরং ড. বি আর আম্বেদকরের প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী চলা উচিত।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যা প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের ও প্রচারের স্বাধীনতা দেয়। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির উত্থাপিত অভিযোগগুলো মূলত সাংবিধানিক অধিকার হরণের আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন রিপোর্টে ভারতে ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বা বিচারবহির্ভূত উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কেবল একটি সম্প্রদায়ের দাবি নয়, বরং তা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ। আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডে, যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ঘরবাড়ি বা উপাসনালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তখন তা নাগরিক সুরক্ষার মৌলিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানে। ভারতের 'বিশ্বগুরু' হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়, বরং বৈষম্যহীন ইনসাফ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তির জন্য অপরিহার্য।

মুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত না করে ভারত 'বিশ্বগুরু' হতে পারবে না: আসাদউদ্দিন ওয়াইসি