মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইরানের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যেকোনো ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চলমান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গত দুই দশকে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলা ও প্রাণহানির ঘটনাগুলোর জন্যও ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে।ট্রাম্পের এই নতুন দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। ফলে নতুন শর্তটি দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।সোমবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি তিনি ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের আওতায় শুধু বর্তমান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিই নয়, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হামলার বিষয়ও থাকবে।ট্রাম্প আরও বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানে কর্তৃপক্ষের হাতে নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের জন্যও অর্থ প্রদানের বিষয়টি তাঁর দাবির অংশ হবে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির দায়ও তেহরানকে নিতে হবে বলে দাবি করেন।ট্রাম্পের বক্তব্যে ২০০০ সালে ইয়েমেনের এডেনে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ বোমা হামলার ঘটনাও উঠে আসে। এর আগে ট্রাম্প ওই হামলায় ইরান “সম্ভবত জড়িত” ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন।এদিকে শান্তি আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ইরানের বন্দর অবরোধ বন্ধ করতে হবে এবং দেশটির তেলশিল্পের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমাধান চাইলেও আলোচনা এখনো অগ্রগতি পায়নি।হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে।এর আগে ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে তাঁর অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার আভাস পাওয়া যায়। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থানকে “লো-কী” রাখার কথা বলেন, যা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের বিলম্ব নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্টকে বিশেষ হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ ক্ষতিপূরণ দাবির কারণে শান্তি আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে তাঁর উত্থাপিত বিভিন্ন ক্ষতিপূরণের দাবি ভবিষ্যতের যেকোনো ও সব আলোচনায় দৃঢ়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইরানের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন ট্রাম্প