আল-হাইআতুল উলয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐতিহাসিক মতবিনিময়
কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এক সৌজন্য চা-চক্র ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঢাকার কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কওমি শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ আলেমরা দেশের জাতীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের স্বাগত জানান এবং ইসলামী শিক্ষার সঠিক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।ইসলামী শিক্ষার প্রধান দুর্গ এবং ঐতিহ্যবাহী দাওরায়ে হাদীসের সমমান প্রদানকারী সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের পক্ষ থেকে এই চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।সভার সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন আল-হাইআতুল উলয়ার অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হযরত মাওলানা মাহফুজুল হক। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে কওমি শিক্ষার মূল দর্শন ও জাতির গঠনে আলেমদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।উক্ত সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:হযরত মাওলানা মাহফুজুল হকহযরত মাওলানা মুছলেহ উদ্দিন রাজুহযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়ামাওলানা মুফতি এনামুল হক (বসুন্ধরা)অছিউর রহমান (অফিস ব্যবস্থাপক, আল-হাইআতুল উলয়া)অত্যন্ত প্রীতিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি, এর ইতিহাস, নীতি ও আলেম-ওলামাদের স্বকীয়তা তুলে ধরা হয়। আল-হাইআতুল উলয়ার অন্তর্ভুক্ত ছয়টি বোর্ড এবং তাদের অধীনে পরিচালিত লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর দ্বীনি শিক্ষার নানা সাফল্য ও সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।কওমি বোর্ডের সদস্যরা উল্লেখ করেন যে, উম্মাহর ঈমান-আকিদা রক্ষা এবং নৈতিক সমাজ গঠনে কওমি মাদরাসাগুলো যুগ যুগ ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এজন্য তারা গণমাধ্যমকর্মীদের যেকোনো সংবাদ পরিবেশনের আগে সঠিক তথ্য যাচাই (Fact-Check), সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য গ্রহণ এবং পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।সভায় উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, আধুনিক উপস্থাপন এবং গণমাধ্যমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তাদের মতামত ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সাংবাদিকরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে কওমি মাদরাসা সংক্রান্ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অংশগ্রহণকারী জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ:১. জহির উদ্দীন বাবর — প্রধান বার্তা সম্পাদক, ঢাকা মেইল ডটকম২. মাসউদুল কাদির — সম্পাদক, শীলন বাংলা৩. হুমায়ুন আইয়ুব — সম্পাদক, আওয়ার ইসলাম৪. মুফতি আবদুল্লাহ তামিম — অ্যাসোসিয়েট জয়েন্ট নিউজ এডিটর, সময় টেলিভিশন৫. জামিল আহমদ — সাব-এডিটর, গ্লোবাল টেলিভিশন৬. রায়হান রাশেদ — হেড অব ইসলাম, এশিয়া পোস্ট৭. বেলায়েত হোসাইন — সাব-এডিটর, দৈনিক নয়াদিগন্ত৮. আবু তালহা রায়হান — হেড অব ইসলাম, দৈনিক কালবেলা৯. কাউসার লাবীব — সাব-এডিটর, আজকের পত্রিকা১০. হাসান আল মাহমুদ — চিফ রিপোর্টার, ৩৬ নিউজ১১. জাওয়াদ আহমদ — সাব-এডিটর, এনপিবি১২. রাকিবুল ইসলাম রইস — স্টাফ রিপোর্টার, ফেস দ্য পিপলআল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয় যে, গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার জন্য তাদের অফিসের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে। এ ধরনের গঠনমূলক মতবিনিময় অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার এবং মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।