কওমী শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা
বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বকে বিশ্বমানের উচ্চতায় তুলে ধরতে এবং তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। শুক্রবার রাজধানীর নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দাওরায়ে হাদিসে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী ৫০০ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সংবর্ধনা নয়, বরং কওমি মেধার মূল্যায়নে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) রাজধানীর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কওমী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’। কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া’র অধীনে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় মেধাতালিকা ও মুমতাজ (স্টার মার্ক) প্রাপ্ত হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে সেরা ৫০০ জনকে এই সংবর্ধনার জন্য নির্বাচন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, "কওমি শিক্ষার্থীরা কেবল দ্বীনি খেদমতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা জাতির নৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।" তিনি আলেমদের আধুনিক ও যুগোপযোগী জ্ঞানচর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই মেধাবী আলেমদের যদি যথাযথ মূল্যায়ন ও সঠিক পথে পরিচালনা করা যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা ইসলাম ও মানবতার জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।"এবারের সংবর্ধনায় পুরস্কার হিসেবে ৪টি পবিত্র উমরাহ প্যাকেজসহ সর্বমোট প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে কিতাব ক্রয়ের ভাউচার, বিশেষ সম্মাননা স্মারক এবং ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার পথে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে। সমাজ গঠনে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক দিকনির্দেশনা ছড়িয়ে দিতে এই তরুণ মেধাবীরাই আগামীর কান্ডারি হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।