সুনামগঞ্জের হাওরের তলদেশ থেকে হঠাৎ গ্যাস ও কাদামাটির রহস্যময় নির্গমন, আতঙ্কে স্থানীয়রা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকরাটি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের একটি হাওরে হঠাৎ করেই ভূগর্ভস্থ গ্যাস নির্গমনের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে পানির নিচ থেকে তীব্র শব্দে কাদামাটি ও পানির মিশ্রণে তৈরি একটি বিশাল স্তম্ভ ওপরের দিকে উঠে আসে। এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত এর কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে মাটির নিচ থেকে হঠাৎ গ্যাস ও কাদা নির্গমনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার দুপুরে পাইকরাটি ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের হাওরের মাঝামাঝি এলাকায় আকস্মিকভাবে পানির নিচ থেকে এক অস্বাভাবিক ও তীব্র শব্দ শোনা যায়। শব্দ হওয়ার পরপরই ভূগর্ভস্থ প্রচণ্ড চাপের কারণে কাদামাটি ও পানির মিশ্রণে তৈরি একটি বড় আকৃতির স্তম্ভ ওপরের দিকে তীব্র বেগে উঠে আসতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই দৃশ্যটি বেশ কয়েক মিনিট ধরে স্থায়ী ছিল।স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গ্যাস নির্গমনের সময় তীব্র আলোড়নে ঘটনাস্থলের পানির রঙ দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে চরম ঘোলাটে রূপ ধারণ করে। নিচ থেকে বের হয়ে আসা অতিরিক্ত কাদামাটি ও তরল উপাদান মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের বিস্তীর্ণ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এবারই প্রথম নয়; এর আগেও ঠিক একই স্থানে এই ধরনের গ্যাস ও কাদা নির্গমনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন। একই স্থানে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি এখন নতুন করে জনমনে বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল এবং এর আশপাশের ভূগর্ভস্থ গঠনশৈলী অত্যন্ত সংবেদনশীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল ধারণা, হাওরের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিকভাবে জমে থাকা মিথেন বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক গ্যাসের অতিরিক্ত চাপের কারণেই বারবার এই ধরনের নির্গমন বা অগ্ন্যুৎপাতের মতো ঘটনা ঘটছে। তবে হাওরের এই সংবেদনশীল প্রাকৃতিক পরিবর্তন নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট খনিজ সম্পদ দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জনাব আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন,"এই একই স্থানে আমরা আগেও ঠিক এমন দৃশ্য (পানির নিচ থেকে তীব্র শব্দে কাদা ও গ্যাস ওঠা) দেখেছিলাম। সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে আবারও ঠিক একইভাবে তীব্র শব্দে কাদা-পানির স্তম্ভের সাথে গ্যাস নির্গমন হতে লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি আমাদের বেশ চিন্তায় ফেলেছে।"পুনরাবৃত্তিমূলক এই প্রাকৃতিক ঘটনার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সুপ্ত আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো প্রকার বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং মাটির নিচে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের গ্যাস রয়েছে তা নিশ্চিত করতে তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তীব্র দাবি জানিয়েছেন।