পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন ও বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে রাজধানীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিক্ষোভ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান অমানবিক নির্যাতন এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। শুক্রবার বাদ জুমা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অবিলম্বে মুসলিম নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণকারী যেকোনো চুক্তি থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির প্রতিবাদে সরব হয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে আলেম-উলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতার ঢল নামে।সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে আমাদের ভাইদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে এই বর্বরতা বন্ধ করতে হবে।"বক্তারা কেবল আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার বিসর্জন দিয়ে কোনো একপেশে চুক্তি জাতি মেনে নেবে না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন তারা।সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন খান, মাওলানা রাশেদ ইলিয়াস, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী ও মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর পল্টন ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীদের কণ্ঠে পশ্চিমবঙ্গের নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে এবং দেশবিরোধী চুক্তির বিপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। নেতৃবৃন্দ মুসলিম উম্মাহর ওপর যেকোনো জুলুম মোকাবিলায় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।