শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিন ও ইসরাইল পতাকা খচিত টুপি পরায় ইহুদি শিক্ষক আটক, কাটা হলো পতাকা

অধিকৃত ফিলিস্তিন ও ইসরাইলি ভূখণ্ডে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি মোদিইন শহরে ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি পতাকা খচিত 'কিপা' (ইহুদি ধর্মীয় টুপি) পরায় এক ইহুদি শিক্ষককে আটক করেছে ইসরাইলি পুলিশ। এ সময় তার টুপি থেকে ফিলিস্তিনি পতাকার অংশটি কেটে ফেলার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।ইসরাইলি পুলিশের পক্ষ থেকে এই আটকের বিষয়টিকে 'জননিরাপত্তা' ও 'উস্কানি' বন্ধের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এমন কোনো কাজ বা প্রতীকের প্রদর্শন আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হ্যারেটজ (Haaretz)-এর তথ্যমতে, পুলিশ এই ঘটনাটিকে "উস্কানি সৃষ্টির সন্দেহ" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, স্থানীয় এক নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথাকথিত 'অবৈধ' কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারছে না।গত ২৪ এপ্রিল ইসরাইলের মোদিইন (Modiin) শহরের একটি ক্যাফেতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স সিনক্লেয়ার, যিনি হিব্রু ইউনিভার্সিটির 'ইন্টারন্যাশনাল জুয়িশ এডুকেশন প্রোগ্রাম'-এর একজন অতিথি অধ্যাপক।সিনক্লেয়ার ক্যাফেতে বসে থাকাকালীন একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে দাবি করেন যে, তার টুপিটি 'অবৈধ' এবং তিনি পুলিশ ডাকবেন। এরপর দুই জন পুলিশ সদস্য এসে সিনক্লেয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক টুপিটি খুলতে বাধ্য করা হয় এবং কিছুক্ষণ একটি সেলে বন্দি রাখা হয়। সিনক্লেয়ার যখন তার ধর্মীয় টুপিটি (কিপা) ফেরত চান, তখন পুলিশ তাকে পুনরায় সেলে ঢোকানোর হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত যখন টুপিটি ফেরত দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় পুলিশ সেটির ওপর থাকা ফিলিস্তিনি পতাকার অংশটি কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলেছে। সিনক্লেয়ারের মতে, এটি কেবল তার নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাত নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীকের ওপর সরাসরি আক্রমণ।এই ঘটনাটি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রেক্ষাপটে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, কোনো প্রতীক বা পতাকা বহন করা যতক্ষণ পর্যন্ত সরাসরি সহিংসতার উস্কানি না দেয়, ততক্ষণ তা নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে একজন শিক্ষাবিদ যখন সহাবস্থানের বার্তা দিতে দুটি পতাকা একসঙ্গে ব্যবহার করেন, তখন তাকে 'উস্কানি' হিসেবে গণ্য করা আইনিভাবে বিতর্কিত।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেকেরই কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। ইসরাইলি পুলিশের এই কর্মকাণ্ড নাগরিকের ধর্মীয় পোশাকের পবিত্রতা নষ্ট করার শামিল। টুপি থেকে পতাকা কেটে ফেলার ঘটনাটি পুলিশের অপেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতমূলক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

ফিলিস্তিন ও ইসরাইল পতাকা খচিত টুপি পরায় ইহুদি শিক্ষক আটক, কাটা হলো পতাকা