নেপালের চীন সীমান্তবর্তী রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালের পুলিশ কর্মকর্তাদের হিসাবে, দুর্যোগে আহত হয়েছেন ২ হাজার ৩০১ জন। এদিকে নেপাল-চীন সীমান্তের উভয় পাশে বিদেশিসহ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যায় সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান জোরদার করা হয়েছে।নেপালের চীন সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নেপালের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দুর্যোগে ২ হাজার ৩০১ জন আহত হয়েছেন।স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উভয় পাশে বিদেশিসহ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের ভাগ্য এখনো অজানা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এর আগে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৫৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।এদিকে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও বন্যায় প্রাণহানি বেড়েছে। সেখানে মৃতের সংখ্যা তিন থেকে বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।বুধবার নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে প্রবল বন্যায় কয়েক ডজন সেতু ধসে পড়ে এবং বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।দুর্যোগের কারণ নিয়েও প্রাথমিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) বুধবার প্রথমে জানায়, বন্যার আগে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে পরে সংস্থাটি তাদের তথ্য সংশোধন করে জানায়, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পনের উৎস ভূমিকম্প নয়, বরং একটি তুষারধস ছিল।কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞরাও বুধবার এক বিবৃতিতে একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, ওই অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় বরফের একটি অংশ ধসে পড়ার ফলে তুষারধস সৃষ্টি হয়। এর পরিণতিতে সৃষ্ট পানির প্রবাহ থেকেই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত ঘটে।দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে দ্রুত ও সমন্বিত তৎপরতা এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।