তুর্কি প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনের পরই সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলা
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের কৌশলগত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে ৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদল ঘাঁটিটি পুনর্বাসনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পরিদর্শন করার পরপরই এই হামলা চালানো হয়। সিরিয়া ও তুরস্ক এই বিমান হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী "অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা" বলে আখ্যায়িত করেছে।সিরিয়ায় গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নতুন করে পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে নতুন সরকার। ঠিক সেই সময়েই দামেস্ক ও আঙ্কারার যৌথ পুনর্গঠন উদ্যোগকে লক্ষ্য করে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিবে আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েল এক একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে।সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সামরিক সূত্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার ভোরে ৮টি ইসরায়েলি বিমান থেকে ঘাঁটিটির রানওয়ে এবং বিভিন্ন গুদামঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ২০১২ সাল থেকে অব্যবহৃত থাকা এই সামরিক ঘাঁটিটি বর্তমানে নতুন সিরীয় সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে।এই বিমান হামলার সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিউ আরব ও সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস-এর তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে পুনরায় চালু ও মেরামতের প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদল স্থানটি পরিদর্শন করে। তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্ক জোরদার এবং দামেস্কের সামরিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণে আঙ্কারার সহায়তায় উদ্বিগ্ন হয়েই তেল আবিব এই বিমান হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তুরস্ক যদি সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তবে ইসরায়েল তা বরদাশত করবে না। আগস্টের শুরুতে সিরীয় বিমান বাহিনী নতুন করে যুদ্ধবিমান দিয়ে মহড়া শুরু করার পরই তেল আবিব চরম প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে।সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে সম্পূর্ণ "অযৌক্তিক এবং আগ্রাসী" আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম বারাকও ইসরায়েলের এই সামরিক হামলার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে নিশ্চিত ইসরায়েলি বিমান হামলাটি একটি অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, যা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে না।"আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েল সিরিয়ায় তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও শত শত বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে গোলান মালভূমির জাতিসংঘের বাফার জোনেও দখলদার বাহিনী ঘাঁটি গেড়েছে। এই অবস্থায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে সমগ্র অঞ্চল জুড়ে নতুন এক বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।