বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

মুসলিমরা কখনো মাথা নত করেনি, করবেও না: জমিয়ত প্রধান আরশাদ মাদানির হুঙ্কার

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্রমবর্ধমানভাবে টার্গেট করা এবং সরকারি মদদে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো ঘৃণা ছড়াচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। দিল্লিতে জমিয়তের সদর দপ্তরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুসলিমরা ভালোবাসার খাতিরে নমনীয় হতে পারে, কিন্তু বলপ্রয়োগ, হুমকি বা নিপীড়নের মুখে কখনো মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মেলনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দেশের শান্তি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট করা হচ্ছে।সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে মাদানি বলেন,"দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, মুসলিম ও ইসলামিক প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান পদক্ষেপ এবং ঘৃণার রাজনীতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে মুসলিমরা কখনো মাথা নত করেনি এবং কখনো করবেও না। শক্তি বা ভয় দেখিয়ে তাদের দমন করা যাবে না।"সম্মেলনে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে বদলে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট "আদর্শিক রাষ্ট্র" গঠনের পরিকল্পিত চেষ্টার সমালোচনা করা হয়। বেশ কিছু বিজেপি-শাসিত রাজ্যে 'বন্দে মাতরম' বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে মাদানি বলেন, "বন্দে মাতরমকে জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা দেওয়া এবং এটি বাধ্যতামূলক করা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী। সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।"জমিয়তের ঘোষণাপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মাজার এবং মাদ্রাসাকে টার্গেট করা হচ্ছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC), ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে একটি বৃহত্তর এজেন্ডার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, "ঘৃণার রাজনীতি এখন হুমকির রাজনীতিতে রূপ নিয়েছে।"পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মাদানি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সংখ্যালঘুদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি মুসলিমদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানান।সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় দেশের সব বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জমিয়ত।মাওলানা মাদানির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বজরং দলের সাবেক রাজ্য আহ্বায়ক ও বিজেপি নেতা বিকাশ ত্যাগী। তিনি মাদানির বক্তব্যকে "উস্কানিমূলক" বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, "দেশ চলবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, কোনো উস্কানিমূলক বিবৃতিতে নয়।" তিনি মাদানির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পলও বন্দে মাতরম ইস্যুতে মাদানির সমালোচনা করে বলেন, দেশের প্রতীকগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সব নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষার স্পষ্ট কাঠামো রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ মুসলিম সংগঠন, যা ঐতিহাসিকভাবেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং জাতীয়তাবাদী ধারার সাথে যুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বৃদ্ধি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), এবং বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় রূপান্তর-বিরোধী আইন নিয়ে মুসলিম সংগঠনগুলোর সাথে সরকারের দূরত্ব ক্রমাগত বেড়েছে।

মুসলিমরা কখনো মাথা নত করেনি, করবেও না: জমিয়ত প্রধান আরশাদ মাদানির হুঙ্কার