বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

গণভোটের রায় ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। ২৫ আগস্ট দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাসহ লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম বিশ্বের অধিকার, ন্যায়বিচার ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতায় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণদাবি আদায়ে সরব হয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। মঙ্গলবার রাজধানীর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ লংমার্চের দিনক্ষণ ও রুট ঘোষণা করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছয় দফা দাবি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নজুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করানিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকৃষি ও শিল্প খাতের রক্ষায় জ্বালানি ও সার সংকট নিরসনসারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নপ্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনাসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়ে তা শেষ হবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি ময়দানে। লংমার্চে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সশরীরে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেবেন।লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে অভ্যর্থনা, চিকিৎসা, পরিবহন, প্রচার-প্রকাশনা এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সারা দেশেই সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ধারণামতে, হাজার হাজার যানবাহন নিয়ে বিশাল এই কাফেলা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে।রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যেন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে আয়োজকরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জানান, মহাসড়কের একটি লেন লংমার্চের বহরের জন্য নির্ধারণ করা থাকবে এবং অপর অংশ সাধারণ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে এ ধরনের বৃহৎ গণজমায়েতের কারণে সাময়িক জনদুর্ভোগের আশঙ্কা থেকে দেশবাসীর কাছে আগাম আন্তরিক ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।সর্বশেষে এটি একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন এবং উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার।

গণভোটের রায় ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ