তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরল হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির প্রতিনিধি দল
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সহানুভূতি ও মানবিক সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্মানিত সভাপতি মুফতি মাহফুজুল হক। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম এবং উপদেষ্টা মুফতি রেজাউল করিম আবরার। বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বিমানবন্দরে তাদের প্রত্যাবর্তনে সংস্থার প্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।ফিলিস্তিন উলামা পরিষদের বিশেষ আমন্ত্রণে মূলত এই সফরের আয়োজন করা হয়। ইসরাইলি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনের মজলুম পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও সহায়তার লক্ষে বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত ১০ হাজার মার্কিন ডলার সফরসূচির শুরুতেই ফিলিস্তিন উলামা পরিষদের দায়িত্বশীলদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে প্রতিনিধি দলটি।তুরস্কে অবস্থানকালে প্রতিনিধি দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। তারা ফিলিস্তিন উলামা পরিষদের সভাপতি ড. নাওয়াফ হাইল তকরুরী এবং তুরস্কের প্রখ্যাত আলেম ও চিন্তাবিদ ড. শাইখ ইহসান শেনোজাক আফানদিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন। এসব বৈঠকে গাজা সংকট, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মজলুমদের অধিকার রক্ষা এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।ফিলিস্তিন সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় উন্নয়ন ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা ছিল এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশে সংস্থাটির মাধ্যমে চলমান প্রায় ১৪টি মানবিক প্রকল্পে তুরস্কের বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব ও অর্থায়ন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বমানের সাহায্য নিশ্চিত করতে তুর্কি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সফরকালে প্রতিনিধি দলটি গত ১০ আগস্ট আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আলেমদের স্থান ও মানবিক ভূমিকা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তারা তুরস্কের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানও পরিদর্শন করেন।উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গাজা ও সুদানে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সুনাম কুড়িয়েছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই সফর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুসলিম উম্মাহর ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে এবং মজলুমের সহায়তায় বাংলাদেশের কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।