শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড; ৭–১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতে পলাতক: দুই ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতে পলাতক: দুই ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ হত্যার পর ভারতে পালিয়ে যায়। এই পালানোর কাজে ভারতীয় দুই নাগরিক সরাসরি সহযোগিতা করেছে, যাদের মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, শহীদ হাদির হত্যাকাণ্ডটি ছিল সুপরিকল্পিত। হত্যার পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ প্রথমে ঢাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজার যান। সেখান থেকে একটি গাড়িতে কালামপুরে এবং পরে অন্য একটি গাড়িতে ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান।

সীমান্ত এলাকায় তাঁদের গ্রহণ করেন ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামের দুই ব্যক্তি, যারা অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত। ফিলিপ পাল ফয়সাল ও আলমগীরকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। পরে তাঁদের ভারতের তুরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ভারতীয় নাগরিক পূর্তির কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। এরপর সামী নামের আরেক ব্যক্তির গাড়িতে করে তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।

ডিএমপি জানায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে পূর্তি ও সামী নামের দুই ভারতীয় নাগরিককে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি চারজন সাক্ষীও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় তাঁকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে মারা যান।

হাদির মৃত্যুর পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।

এদিকে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ আজ রোববার বেলা দুইটা থেকে সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

বিষয় : ডিএমপি শহীদ শরিফ ওসমান হাদি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতে পলাতক: দুই ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ হত্যার পর ভারতে পালিয়ে যায়। এই পালানোর কাজে ভারতীয় দুই নাগরিক সরাসরি সহযোগিতা করেছে, যাদের মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, শহীদ হাদির হত্যাকাণ্ডটি ছিল সুপরিকল্পিত। হত্যার পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ প্রথমে ঢাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজার যান। সেখান থেকে একটি গাড়িতে কালামপুরে এবং পরে অন্য একটি গাড়িতে ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান।

সীমান্ত এলাকায় তাঁদের গ্রহণ করেন ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামের দুই ব্যক্তি, যারা অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত। ফিলিপ পাল ফয়সাল ও আলমগীরকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। পরে তাঁদের ভারতের তুরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ভারতীয় নাগরিক পূর্তির কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। এরপর সামী নামের আরেক ব্যক্তির গাড়িতে করে তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।

ডিএমপি জানায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে পূর্তি ও সামী নামের দুই ভারতীয় নাগরিককে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি চারজন সাক্ষীও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় তাঁকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে মারা যান।

হাদির মৃত্যুর পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।

এদিকে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ আজ রোববার বেলা দুইটা থেকে সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত